Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতি

২০২৬-২৭ সালে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন!

বিশ্বব্যাংক ও ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের পূর্বাভাস

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৪১ এএম

২০২৬-২৭ সালে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন!

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক এবং ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। সংস্থা দুটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় মূল্য প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩০০ ডলারে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক হলে এবং ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের দর আউন্স প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ডলারের নিচেও নেমে আসতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন স্বর্ণের দাম এখন সর্বোচ্চ শিখরে। অর্থনীিিযতির নিয়ম অনুযায়ী দর এখন কেবল কমবে। সবকিছু নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ওপরে। ২০২৭ সালে সবকিছু ঠিক থাকলে এটি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সংশোধন হতে পারে।  ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, সামগ্রিক অর্থনৈতি ক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে ২০২৬ সালের ফলাফল উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ওঠানামা করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে স্বর্ণবাজার মোটা দাগে ঊর্ধ্বমুখী থেকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবে। বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য গড় মূল্য ৪ হাজার ৭০০ ডলারকে ভিত্তি ধরে ওপরের দিকে যাওয়ার সুযোগ থাকবে, বিশেষত যদি মন্দার ঝুঁকি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রবণতা আরও তীব্র হয়।

তবে ২০২৭ সালে পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী ওই বছর গড় মূল্য ৪ হাজার ৩০০ ডলারে নেমে আসতে পারে, যা ২০২৬-এর সর্বোচ্চ থেকে একটি মাঝারি সংশোধন। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি পুরোপুরি ধসের ইঙ্গিত নয়, বরং স্বাভাবিক মূল্য সমন্বয়।

মূল্য নির্ধারণে যে চারটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দুই বছরে স্বর্ণের দাম মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। প্রথমত, সুদের হার কমলে সাধারণত স্বর্ণের দাম বাড়ে। দ্বিতীয়ত,  ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত স্বর্ণের ওপর চাপ পড়ে। তৃতীয়ত, সংঘাত বা অনিশ্চয়তা বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। চতুর্থত, বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে পোর্টফোলিও হেজ হিসেবে ব্যবহার করতে থাকলে এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক স্বর্ণমূল্যের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের স্বর্ণ বাজারেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। দেশে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে বৈশ্বিক মূল্য কমলে দেশের জুয়েলারি শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে আমদানি ব্যয়, শুল্ক কাঠামো এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারও চূড়ান্ত মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংক ও ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের এই প্রক্ষেপণ এবং বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। স্বর্ণ বাজার নীতিগত পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতির বিস্ময়কর গতিবিধি এবং ভূরাজনৈতিক আঘাতের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই যে কোনো বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের আগে বাজারের হালনাগাদ তথ্য এবং পেশাদার পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

বাজুসের উপকমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, আগামী দুই বছর স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে থাকবে। ২০২৬ সালে উচ্চমূল্যের ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ২০২৭ সালে মাঝারি সংশোধনের পথে হাঁটার পূর্বাভাস এখন বিশেষজ্ঞ মহলে বেশ আলোচিত। বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ কেনে পোল্যান্ড, ১০২ টন। এরপর কাজাকিস্তান ৫৭ টন, ব্রাজিল ৪০ টন, আজারবাইজান ৩৮ টন, তুরস্ক ২৭ টন, চীন ২৭ টন, চেকরিপাবলিক ২০ টন, উজবেকিস্তান ৯ টন, ইন্দোনেশিয়া ৪ টন ও ঘানা ৪ টন। অপরদিকে স্বর্ণবিক্রির তালিকায় ছিল সিঙ্গাপুর ১৫ টন, রাশিয়া ৬ টন, জার্মানি ১ টন ও জর্ডান ১ টন।

বাজার বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০২৫ সালে ২৩টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪৭৩ টন স্বর্ণ কিনেছে। কিন্তু বিক্রি করেছে মাত্র চারটি দেশ। যার পরিমাণ মাত্র ২৫ টন। স্বর্ণ কেনাবেচার এ বিশাল ব্যবধানও বাজারকে অস্বাভাবিক করে ফেলে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২১ সালে স্বর্ণের গড় দর ছিল আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৭৯৯ ডলার, ২০২২ সালে ১ হাজার ৮০০ ডলার, ২০২৩ সালে ১ হাজার ৯৪১ ডলার, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৩৪৪ ডলার, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৫৫০ ডলার। ২০২৬ সালের গড় দর এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৭০০ ডলার। তবে আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ  দর উঠেছিল ৫ হাজার ৫৮৯ ডলার। বিশ্বব্যাংক ও ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল মনে করছে, ২০২৭ সালে দর কমে গড়ে ৪ হাজার ৩৭০ ডলারে আসবে।  

একটি সূত্র বলেছে, স্বর্ণের বাজার গত তিন বছর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সেভাবে বাজার সংশোধন হলে দুবছরে দর সংশোধন সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বাজার সংশোধন হয়ে ২০২৫ সালের দর ৩ হাজার ৫৫০ ডলারে নেমে এলে তা অস্বাভাবিক কিছু হবে না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার