বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার চাপ পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। মূল্যবান ধাতুটির দাম সোমবার (১ জুন) বেড়ে গেছে। রয়টার্স বলছে, মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া ও অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫১৮.০৯ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের সেশনে এটি দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারসও ১ শতাংশ কমে ৪,৫৪৮.৯০ ডলারে দাঁড়ায়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এখনও অনিশ্চিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি—এই দুই বিষয় সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণবাজারকে কিছুটা চাপে রেখেছে।
সোমবার প্রাথমিক লেনদেনে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যা মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, উচ্চ সুদের হার পরিবেশে এর আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এটি কোনো সুদ বা আয় দেয় না।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ভাইস চেয়ার ফর সুপারভিশন মাইকেল বোওম্যান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলছে তা এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে আরও কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োজন হতে পারে।
টিম ওয়াটারারের মতে, অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫,৫০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে যদি তেলের দাম কমে, ডলারের মূল্য হ্রাস পায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় অব্যাহত থাকে।
তেল ও স্বর্ণের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও। এসময়ে রূপার দাম ০.৪% বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫.৫৮ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনাম ১.১% বেড়ে ১,৯৩৭.৩০ ডলারে উঠেছে এবং প্যালাডিয়াম ১.২% বেড়ে ১,৩৭০.৫০ ডলারে পৌঁছেছে।