বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মুদ্রাস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীরা মূল্যায়ন করায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৯ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূণ্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০৫ দশমিক ৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূণ্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৩৫.৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা সামনে আসার পর বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। তবে দিন শেষে বাজারে আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে।
গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে নেমে গিয়েছিল এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা না এলে তা আরও কমতে পারত। তবে হঠাৎ করেই বাজারে দিক পরিবর্তন দেখা যায় এবং আজও সেই পরিস্থিতি কিছুটা বজায় রয়েছে।
বাজারে এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির দিকে। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দুই দেশ যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চুক্তিটি অনুমোদন দেননি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে মুদ্রাস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম গতিতে বেড়েছে। এতে অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ফেডারেল রিজার্ভ আগামী দীর্ঘ সময় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুদ্রানীতি সঠিক অবস্থানেই রয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ থাকবে, যদিও বছরের শেষ দিকে তা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার প্রতি আউন্স ৭৫ দশমিক ৬১ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। প্যালাডিয়ামের দাম শূণ্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৭৫ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাপ্তাহিক লাভের দিকে এগোচ্ছে। তবে প্লাটিনামের দাম শূণ্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯১৪ দশমিক ৯৫ ডলারে নেমেছে এবং এটি সাপ্তাহিক ক্ষতির পথে রয়েছে।