বিজ্ঞাপন
ব্যাংকে পড়ে আছে ৫৩ কোটি টাকা, নেই কোনো দাবিদার
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
ব্যাংকে টাকা পড়ে আছে, কিন্তু কোনো দাবিদার নেই। দেশের ৩৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে গ্রাহকদের এমন অর্ধশত কোটি টাকার বেশি দাবিহীন আমানত হিসেবে জমা রয়ে গেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা এসব টাকার খোঁজ নিচ্ছেন না এর আসল মালিকেরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৩টি ব্যাংকে স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে দাবিহীন আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা।
দেশের বাকি ২৮টি ব্যাংকের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাকি ব্যাংকগুলোর হিসাব যুক্ত করলে এই অর্থের পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। গ্রাহকের মৃত্যু, বিদেশে স্থায়ী হওয়া, ঠিকানা পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকা কিংবা উত্তরাধিকারীদের তথ্য না থাকার কারণে মূলত এসব অ্যাকাউন্ট বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় থাকে। অনেক সময় পরিবারও জানে না যে তাদের স্বজনের নামে ব্যাংকে আমানত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব ছাড়া কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা আমানতের বিষয়ে টানা ১০ বছর ধরে কোনো লেনদেন বা দাবিদার পাওয়া না গেলে ওই হিসাবকে অদাবিকৃত আমানত হিসাব হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রতি বছর এপ্রিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে এসব অদাবিকৃত আমানত, বৈদেশিক মুদ্রা, চেক, ড্রাফট ও মূল্যবান সামগ্রী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অর্থ সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা তাঁর উত্তরাধিকারীদের ফিরিয়ে দিতে প্রায় এক বছর হিসাবধারীর নাম, হিসাব নম্বর ও টাকার পরিমাণসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ সময় কোনো দাবিদার উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারলে তাঁর অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সরিয়ে নেওয়ার পর আরও এক বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই অর্থ ফেরত দিতে রাজি থাকে। সব মিলিয়ে অন্তত ১২ বছর তিন মাস সময় দেওয়া হয় অদাবিকৃত আমানত ফেরত নেওয়ার জন্য। এরপরও দাবিদার পাওয়া না গেলে সেই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে কোনো আমানতকারী বা উত্তরাধিকারী উপযুক্ত প্রমাণসহ দাবি করলে ব্যাংক সেই অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকে এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের হিসাব থেকে তা সমন্বয় করে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থ হস্তান্তরের আগে গ্রাহকের ঠিকানায় চিঠি, এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাড়া না পেলেই কেবল নিয়ম অনুযায়ী অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩৩টি ব্যাংক অর্থ জমা দিলেও ১০টি ব্যাংক সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। আর বাকি ১৮টি ব্যাংক এখনো অর্থ জমা দেয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্দিষ্ট সময় কোনো লেনদেন না হলে সেই হিসাবকে অদাবিকৃত আমানত হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের অর্থ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে আমানতকারীরা পরবর্তী সময় দাবি করলে ব্যাংক সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দিতে বাধ্য থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ৩৩টি ব্যাংকের দাবিহীন ৫৩ কোটি টাকার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় রয়েছে ৪৯ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার ৪৯৬ টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে মার্কিন ডলারে প্রায় ৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, পাউন্ডে ২৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং ইউরোতে ৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা রয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দাবিহীন আমানতের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কয়েকটি বড় বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক। এর মধ্যে বিদেশি খাতের সিটি ব্যাংক এনএ-এর সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ কোটি টাকা রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এছাড়া এইচএসবিসির প্রায় ৬ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং সিটি ব্যাংকের প্রায় ৩ কোটি টাকার দাবিহীন আমানত রয়েছে। এসব আমানতের বড় অংশই দীর্ঘদিন অচল থাকা সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআর ও বিভিন্ন ডিপোজিট স্কিমের টাকা।