Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতি

বিয়ের খরচে স্বস্তি দিচ্ছে ‘বিবাহ ঋণ’, যেসব শর্তে যারা পাবেন

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

বিয়ের খরচে স্বস্তি দিচ্ছে ‘বিবাহ ঋণ’, যেসব শর্তে যারা পাবেন

বিজ্ঞাপন

দেশে বিয়ের ব্যয় সামাল দিতে ‘বিবাহ ঋণ’ বা ব্যক্তিগত ঋণের বিশেষ একটি অংশের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ভোক্তা ঋণের আওতায় এই সুবিধা দিচ্ছে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও সব ব্যাংক এখনো পুরোপুরি এ খাতে সক্রিয় হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিয়ের জন্য দেওয়া এই ঋণ মূলত ব্যক্তিগত বা ভোক্তা ঋণেরই একটি অংশ। এটি এখন কিছু ব্যাংক আলাদা করে ‘ম্যারেজ লোন’ নামে দিলেও অনেক ব্যাংক সাধারণ পার্সোনাল লোনের মাধ্যমেই এই সুবিধা দিচ্ছে।

বিভিন্ন ব্যাংকের শর্ত ও সীমা

বিয়ের জন্য তুলনামূলক বেশি ঋণ পাওয়া যায় ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক থেকে। তারা ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় এক লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেয়। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং জমির মালিকরা এ সুবিধা নিতে পারেন। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১-৫ বছর। চাকরিজীবীদের মাসিক আয় কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ হাজার টাকা হতে হবে।

উত্তরা ব্যাংক বিয়ের জন্য তুলনামূলক ছোট পরিসরের ঋণ দেয়। এখানে ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যায়। এই ঋণ ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। 

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় ২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিয়ের ঋণ দেয়। ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা পেতে পারেন।

ইউসিবিও বিয়ের জন্য ঋণ দেয়, যেখানে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৫ বছর।

কাদের জন্য বিবাহ ঋণ প্রযোজ্য নয়

নিয়মিত আয় না থাকলে, অস্থায়ী বা অনিশ্চিত পেশায় যুক্ত থাকলে, বয়স সীমার বাইরে হলে বা ব্যাংকে দুর্বল লেনদেন ইতিহাস থাকলে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া পূর্বে ঋণ খেলাপি হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

কারা পাবেন ‘বিবাহ ঋণ’

বিবাহ ঋণের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি নিজের জন্য নিতে পারবেন। বয়স ও আয়ের স্ট্যাটাস অনুযায়ী ব্যক্তি তার সন্তান ও ভাই-বোনের জন্য এ ঋণ সুবিধা পাবেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীরা এই ঋণ পাবেন।

আবার বিজিবি সদস্যের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে কোনো বিজিবি সদস্য তার সন্তানের বিয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৬ বছর পর্যন্ত এই ঋণ নিতে পারবেন। এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

আবেদন করতে যা যা প্রয়োজন

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি লাগবে। সদ্য তোলা দুই কপি ছবি ও বেতন স্লিপ বা বেতনের সার্টিফিকেট (চাকরিজীবীদের জন্য)। আর চাকরিজীবী না হলে ঘর সাজানো লোনের জন্য ট্রেড লাইসেন্স (ব্যবসায়ীদের জন্য)। ব্যাংক স্টেটমেন্ট (গত ৬-১২ মাসের) প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঘর সাজানো ও আসবাব কেনা বাবদ দেশের প্রায় সিংহভাগ ব্যাংকই ঋণ দেয়। এই ঋণ নিতে কিছু ক্ষেত্রে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) প্রয়োজন হয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার