Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একমাত্র জিপিএ-৫, কৃতিত্ব যমজ দুই বোনের

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একমাত্র জিপিএ-৫, কৃতিত্ব যমজ দুই বোনের

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মাত্র দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের দুজনই যমজ বোন; রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। পারিবারিক অভাব-অনটন, আর্থিক সংকট ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁদের এমন সাফল্যে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। রহিমা ও রাবেয়া রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন এই দুই যমজ বোন। অন্যদিকে, উপজেলার সাতটি কলেজ, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থী।

দুই বোনের বাড়ি উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামে। তাঁদের বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু এবং মা নাসিমা বেগম। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে রহিমা ও রাবেয়া যমজ। তাঁদের বাবা বেকার হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে চলছে পরিবারটি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছে মা-বাবাকে। তবে আর্থিক সংকট তাঁদের পড়াশোনার আগ্রহ ও স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

দুই বোনের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল তাঁদের একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। অন্যদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি ও ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি তাঁরা উপবৃত্তিও পেয়েছেন।

রহিমা ও রাবেয়ার মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার দুই বোনের একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ স্যার ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা উপবৃত্তিও পেয়েছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো আমার মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।’

বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু বলেন, ‘আমি একজন বেকার মানুষ। অভাব-অনটনে সংসার চলছে। মেয়েদের ঠিকমতো লেখাপড়ার খরচ ও ভালো খাবার দিতে পারিনি। আজ তারা ভালো ফল করেছে, আমি খুব খুশি। সবাই আমার মেয়েদের জন্য দোয়া করবেন, তারা যেন ভালো চাকরি করে মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।’

প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘রহিমা ও রাবেয়া দুই বোনই খুব মেধাবী ছাত্রী। তাদের বাবার পক্ষে ভালো কোনো জায়গায় পড়াশোনা করানো সম্ভব ছিল না। পরে আমরা তাদের বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়াই। তারা আজ জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা গর্বিত।’

নিজেদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রহিমা ও রাবেয়া জানায়, বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়ে তারা পড়াশোনা করেছে। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার সময়টুকু বাদে দিনের প্রায় পুরো সময়ই পড়াশোনায় ব্যয় করত। এমনকি ঘুমও হতো খুব সীমিত। এখন তাদের স্বপ্ন, ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই যমজ দুই বোনই মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। তারা যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে, সেই দোয়া করি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার