বিজ্ঞাপন
পুলিশ আবার উকিলও, সরাইল থানার ওসিকে শোকজ
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
পুলিশের চাকরিতে থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রিয় রাখার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এ কারণে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সমিতির নথি অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে তিনি সংগঠনটির সদস্য।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তর্কাতর্কির পরে আমরা জেনেছি সরাইল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা মনজুর কাদের ভূঁইয়া চট্টগ্রাম বারের সদস্য। এ কারণে তাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের চাকরিতে থেকে আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রিয় রাখার বিষয়টি সমিতির বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্য পেশায় যুক্ত থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, আইন পেশায় নিয়মিত যুক্ত না থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। এ লক্ষ্যে গত ২৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োজিত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিচ্ছেদ ৩-এর ৭(১) বিধি অনুযায়ী আইন বিষয়ে শিক্ষকতা এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ বহাল রাখতে পারবেন। অন্যথায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষ্ক্রিয় সদস্যদের শনাক্ত করতে অভিযোগ বাক্সে নাম-ঠিকানাসহ তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, পুলিশে যোগদানের আগেই আমি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলাম। সমিতির পাঠানো নোটিশের জবাবে লিখিত ব্যাখ্যার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছি।
সম্প্রতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে সরাইল থানার ওসির বাগ্বিতণ্ডার ঘটনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত ২২ অক্টোবর রাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে রুমিন ফারহানা থানায় যান। এ সময় দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।