বিজ্ঞাপন
রাস্তার কাজ তদারকির সময় ব্যাগে লাখ টাকা, উপসহকারী প্রকৌশলী আটক
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ এএম
বিজ্ঞাপন
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর টাকাভর্তি ব্যাগসহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে আটক করেছেন স্থানীয়রা।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে নগদ এক লাখ টাকা এবং তার পকেট থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় উপসহকারী প্রকৌশলী নূর ই আকরামকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের গিদালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বোদা উপজেলার সাকোয়া-নয়াদীঘি ভায়া বোয়ালমারী পাকা সড়কের নির্মাণকাজের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
এ প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন বোদা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নূর ই আকরাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনের সময় কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানান এলাকাবাসী। এ সময় তারা প্রকল্পের কাগজপত্র দেখতে চাইলে প্রকৌশলী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করার কথা বললে তিনি তাতে রাজি হননি। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
ঘটনার একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে আটকে রাখেন। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি আলোচনায় আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এক লাখ টাকা উদ্ধার করে। এ ছাড়া তার পকেট থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।
তবে উদ্ধার করা টাকার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী নূর ই আকরাম। তার দাবি, টাকাগুলো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সঙ্গে রেখেছিলেন। অর্থের সঙ্গে সড়ক নির্মাণকাজের কোনো অনিয়মের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় একজন উপসহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে এত পরিমাণ নগদ টাকা বহনের বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। এ ঘটনায় তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বোদা থানার ওসি সোয়েল রানা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। উপসহকারী প্রকৌশলীকে পুলিশি হেফাজতে থানায় রাখা হয়েছে।