বিজ্ঞাপন
হাত রাখলেই রোগ নির্ণয়, এ কেমন ডিভাইস ভুয়া চিকিৎসকের!
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ পিএম
বিজ্ঞাপন
বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫ বছর ধরে মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিসহ নানা রোগের রোগী দেখে আসছিলেন আলীমুল ইসলাম (৪৮)। ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসের সাহায্যে রোগ নির্ণয়ের কথা বলে রোগীদের বিশ্বাস করেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়েছেন তিনি।
আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে রোগী দেখার সময় তাকে আটক করেন।
এসময় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দ করা হয় চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও কাগজপত্র।
সালেহা বেগম নামের এক নারী জানান, চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথা ভুগছিলেন। এক দালালের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছিলেন, বাবুগঞ্জের কলেজ গেট এলাকায় এমন একজন চিকিৎসক রয়েছেন, যিনি যন্ত্রের সাহায্যে সব ধরনের রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেন। সেই কথায় বিশ্বাস করে তার কাছে যান সালেহা। তিনি আলীমুলের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তিনি আরো জানান, একটি ডিভাইসে হাত রেখে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেন তিনি। পরে জানতে পারেন, চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির যোগ্যতা ও কাগজপত্র ভুয়া।
সালেহার মতো এমন আরো অনেক সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার নামে প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে ভুয়া চিকিৎসক আলীমুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখতেন আলীমুল।
বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকায় নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি।
তার ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ‘ডা.’ লেখার পাশাপাশি এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য উল্লেখ ছিল। মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলেও দাবি করতেন তিনি। তবে এসব যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের সনদ যাচাই করে ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) তামিম মল্লিক ও মেডিক্যাল অফিসার তূর্য অধিকারী উপস্থিত ছিলেন।
তূর্য অধিকারী জানান, খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তার দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এ ধরনের অভিযান স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও আসমা উল হুসনা জানান, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে আলীমুল নিজের নামের আগে ‘ডা.’ লিখে চিকিৎসক পরিচয় দিতেন। তবে তিনি এর পক্ষে বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
তিনি আরো জানান, আলীমুলকে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযানে চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।