Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

৬ ছেলের পাকা ঘর, কারও কাছে ঠাঁই পাচ্ছিলেন না মা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ এএম

৬ ছেলের পাকা ঘর, কারও কাছে ঠাঁই পাচ্ছিলেন না মা

বিজ্ঞাপন

৮৫ বছর বয়সি জয়নব ভানুর ছয় ছেলের পাকা ঘর। অথচ কারও বাসায় মায়ের জন্য একটি কক্ষ নেই। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে কারও ঘরে ঠাঁই না পেয়ে দরজার সামনে অবস্থান করছিলেন এই মা। চাঁদপুরের শাহরাস্তির এ বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে জয়নব ভানুকে সৌদি প্রবাসী সেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের বাসায় তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন।

প্রায় দুই ঘণ্টা পারিবারিক সমঝোতার পর তাকে সেজো ছেলের বাসায় রাখা হয়। এ সময় মেয়ে ঝর্ণা বেগমের বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা জয়নব ভানুকে নিয়ে আসা হয়।

ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। জয়নব ভানুর ছয় ছেলের প্রত্যেকের পাকা ভবন রয়েছে, অথচ কারও বাসায় মায়ের জন্য একটি কক্ষ নেই। তাকে সেজো ছেলের বাসায় তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মনিটরিং করা হবে। দুই মাস পর তিনি আবার ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেবেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরও বিষয়টি নজরে রাখতে বলা হবে।

জানা গেছে, জয়নব ভানুর ১০ সন্তানের মধ্যে ছয় ছেলে ও চার মেয়ে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ৮৫ বছর বয়সি এই বৃদ্ধাকে কোনো ছেলে নিজের ঘরে আশ্রয় দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে নিজ বাড়িতে ছেলেদের ঘরের দরজায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও আশ্রয় না পাওয়ার ঘটনা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করে। বন্ধ দরজায় বারবার টোকা দিয়েও সাড়া না পেয়ে সেখানে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে খোঁজখবর নেন।

শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব কাদরা গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমেদের স্ত্রী জয়নব ভানু বহু বছর আগে স্বামীকে হারান। ছেলেদের কারও ঘরে ঠাঁই না পেয়ে তিনি স্বামীর ভিটায় একটি কুঁড়েঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন।

জয়নব ভানুর অভিযোগ, দীর্ঘ এক মাস কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরে তিনি ছেলেদের ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার সামনে অসহায় অবস্থায় বসেছিলেন।

এ বিষয়ে মেজো ছেলে আবুল কাশেম দাবি করেন, তার মা দীর্ঘ এক বছর কোথায় ছিলেন, তা তিনি জানেন না। তিনি কয়েকবার মাকে ডেকেছেন বলেও জানান। 

বড় ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী বলেন, বৃদ্ধা তাদের দরজার সামনে কয়েক মিনিট বসেছিলেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। 

সেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীও জানান, জয়নব ভানু কখন এসেছেন, তা তারা জানেন না।

মেয়ে ঝর্ণা বেগম বলেন, মায়ের খবর শুনে তিনি ছুটে এসেছেন। গত ২০ বছর ধরে তার মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে। ছেলেরা চান, মাকে যেন আমার বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

জয়নব ভানুর ছয় ছেলের মধ্যে শাহজাহান ও আবুল কাশেম বাড়িতে থাকেন। বাকি চার ছেলে প্রবাসে রয়েছেন।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম বেলাল বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে বার্ধক্যে একজন মায়ের সঙ্গে এমন ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক। সামাজিকভাবে ছেলেদের বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে ছেলেদের কারও ঘরে আশ্রয় না পেয়ে জয়নব ভানুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান মেয়ে ঝর্ণা বেগম। পরে ইউএনওর উদ্যোগে তাকে সেজো ছেলের বাসায় রাখা হয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার