বিজ্ঞাপন
পাগলা মসজিদ
সোনা-রুপা ছাড়াও মিলল ডলার-পাউন্ড-রিয়ালসহ অন্তত ৩০ দেশের মুদ্রা
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
বিজ্ঞাপন
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে সোনা-রুপা ছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আমেরিকার ডলার, সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, আমিরাতের দিরহাম, মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত, ব্রিটিশ পাউন্ড ও কুয়েতি দিনারসহ ৩০টি দেশের মুদ্রা রেয়েছে।
একই সঙ্গে ১০৪৪ ভরি (১২ কেজি ১৭৪গ্রাম) সোনা ও ১০৮৮ ভরি (১২ কেজি ৬৯০গ্রাম) রুপা পাওয়া যায়।
গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে সোনা ও রুপার হিসাব পাওয়া যায়। ওই দিন সকাল পৌনে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যার দিকে স্বর্ণ ও রুপার পরিমাণ নির্ধারণ সম্পন্ন হলেও বৈদেশিক মুদ্রার গণনা ও হিসাব নির্ধারণের কাজ শেষ হয় রাত সাড়ে ১১টা বেজে যায়।
দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মধ্যে রয়েছে আমেরিকার ডলার ৮ হাজার ৫৭টি, সৌদি রিয়াল ৫৭ হাজার ৪১৪টি, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭টি, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ২৯ হাজার ৬৬২টি, আমিরাতের দিরহাম ১৪ হাজার ২৪০টি, কুয়েতি দিনার ৭৬৭টি, ওমানি রিয়াল ৮৮৮টি, কাতারি রিয়াল ৭ হাজার ৯৭৩টি, বাহরাইনি দিনার ৩৩৩টি, সিঙ্গাপুর ডলার ১ হাজার ৭১৮টি, ব্রিটিশ পাউন্ড ১ হাজার ২২০টি, ইউরো ৫ হাজার ২৪৫টি, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৫৫৫টি, কানাডিয়ান ডলার ২৫টি, মালদ্বীপের রুফিয়া ৯০০টি, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭টি এবং চীনা ইউয়ান ৩০৫টি। এ ছাড়া অচিহ্নিত বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রা পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ছয় বছরে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণের পরিমাণ ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম এবং রুপার পরিমাণ ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের বিপুল মুদ্রাও ছিল।
গণনার পর সোনা-রুপা ও বিদেশি মূদ্রা আবার ট্রেজারিতে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ ছয় বছর পর দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব সামগ্রী গণনা ও পরিমাপ করা হয়।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণাকারেরা সহযোগিতা করেন।
জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ সদস্য স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ করেন।
তিনি আরো জানান, স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণের পর টেন্ডারের মাধ্যমে অলঙ্কারগুলো বিক্রি করা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কার নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। সেগুলো বিক্রি করে পাওয়া যায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকা। এ ছাড়া দানসিন্দুকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে তখন ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এর আগে ২০১৫ সালে আবার জমা পড়া সোনা-রুপা গণনা করা হয়।
সবশেষ গত ২৭ জুন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময় পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে ১৩১ কোটি টাকা জমা আছে। পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, সাধারণত তিন-চার মাস পর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়। তখন কেবল দেশি টাকাগুলো গণনা করা হয়। সোনা-রুপার বা অন্যান্য ধাতুর অলঙ্কার ও বিদেশি মূদ্রা-যা পাওয়া যায়, সেগুলো জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়। দীর্ঘ দিন জমিয়ে ৫-৬ বছর পর গণনা বা পরিমাপ করা হয় এইসব সোনা-রুপা।