বিজ্ঞাপন
তাজমিন হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো পুলিশ
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ এএম
বিজ্ঞাপন
স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শর্টকাটের কথা বলে তাকে ভুল পথে নিয়ে যায় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। এরপর ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে শ্বাসরোধ করে ও মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন শেষে এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
গেল ৮ তারিখ লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে চালক সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত তাজমীন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার গ্রামের বাড়ি যশোর জেলায় হলেও বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত সে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমীন। চালক সুমন মিয়া ৫০০ টাকা ভাড়া চাইলে ৩০০ টাকায় যাওয়ার চুক্তি হয়। যাত্রাপথে একটি দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে চালককে রুটি ও কলা কিনে আনতে দেয় ওই কিশোরী। এরপর তারা গন্তব্যের দিকে রওনা হয়।
কিছুদূর যাওয়ার পর শর্টকাটে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে নূরজাহান হোটেলের সামনে দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুর রোডের দিকে চলে যায় চালক সুমন। পরে বিজরা বাজার হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হঠাৎ অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এতে তাজমীন ভয় পেয়ে যায়। জায়গাটি চিনতে না পেরে সে চালককে প্রশ্ন করলে সে জানায়, এটি রেসকোর্স নয়। বিপদ বুঝতে পেরে তাজমীন সিএনজি থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এসময় চালক সুমন অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে আটকাতে গেলে তাজমীন চিৎকার শুরু করে। তখন সুমন গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং তাজমীন দুর্বল হয়ে পড়ে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছে, এসময় সে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে ধানক্ষেতে নিয়ে উপুড় করে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
হত্যার পর তাজমীনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন ছিনিয়ে নেয় সুমন এবং ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয়। পরে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে সে। এরপর অন্য একটি ভাড়ায়চালিত অটোরিকশা করে বাকরাবাদ এলাকায় চলে যায়। সেখানে একটি পুকুর পাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায় সুমন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর সুমনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার বাকরাবাদ এলাকার সেই জঙ্গল থেকে তাজমীনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ধানক্ষেত থেকে তার ভ্যানিটি ব্যাগটিও উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে এবং নিজের দোষ স্বীকার করেছে।