বিজ্ঞাপন
মোটরসাইকেলে এসে গাড়ি আটকে গুলি, দুই বস্তা টাকা লুট
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
মোটরসাইকেলে এসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের কর্মীদের বহনকারী প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে গাড়িতে থাকা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলি লেগেছে। ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে তিন কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিকাশের তিন কর্মকর্তা ও তাদের গাড়িচালক। তারা নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাওনায় ফিরছিলেন।
হামলার শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তিনটি বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে তোলা হয়েছিল। ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের গাড়িটি মাওনার দিকে যাওয়ার পথে কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে তারা।
পরে হিমেলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। অন্য দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককেও পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এরপর গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
গুলিবিদ্ধ হিমেল (৩৫) মাওনা এলাকার বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত অন্যরা হলেন- ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত আহমেদ (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হিমেলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, আহত চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির ক্ষত ছিল। তার অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম সমকালকে জানান, হামলার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। চার কোটি টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাইভেটকারে থাকা তিন বিকাশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।