বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশের আড়ালে কন্টেইনারে বিলাসবহুল গাড়ি
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা একটি কন্টেইনারে মিলেছে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার, আরেকটি বিএমডব্লিউ সেডানের সামনের অংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক।
কাস্টমস নথিতে যেসব পণ্য আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কায়িক পরীক্ষায় তার সঙ্গে কন্টেইনারে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় মিথ্যা ঘোষণায় গাড়ি ও গাড়ির বিভিন্ন অংশ আমদানির অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি’ থেকে কন্টেইনারটি আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড’।
কাস্টমস নথিতে চালানটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কন্টেইনার খুলে পরীক্ষা করার পর ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ব্যাপক পার্থক্য ধরা পড়ে।
কায়িক পরীক্ষায় কন্টেইনারের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ সিকেডি বা কমপ্লিটলি নকড ডাউন অবস্থায় ২০০৯ মডেলের দুই আসনবিশিষ্ট একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২৫০০ সিসি। গাড়িটি সাধারণ যন্ত্রাংশের পরিবর্তে সিকেডি অবস্থায় থাকায় কাস্টমস ঘোষণার সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
একই চালানে পাওয়া গেছে ২০১৬ সালের প্রায় ৩০০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফ-কাট। একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুধু সামনের অংশ কীভাবে ওই চালানে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে গোপনে খালাস করা হয়েছে কিনা, অথবা পরবর্তী কোনো চালানে আনার চেষ্টা করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় একাধিক চালানে আমদানি করে পরে দেশে সেগুলো পুনঃসংযোজনের একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এভাবে গাড়ির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বা সংশ্লিষ্ট অংশ আলাদা আলাদা চালানে এনে প্রকৃত পণ্য ও মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও গাড়ির অংশগুলোর ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রকৃত শুল্ক মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমডব্লিউ গাড়িটির বাকি অংশের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের গাড়ি বা গাড়ির অংশ আমদানির সম্ভাব্য চক্র ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।