Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ: এসআই-কনস্টেবল ক্লোজড

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ এএম

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ: এসআই-কনস্টেবল ক্লোজড

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে জমিজমা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে আদালতে যাওয়ার পথে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিভাগীয় ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের নবাগত সহকারী পুলিশ সুপার রাফিউর রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তার ভাই ইউনুস মিয়া ও ইউনুস মিয়ার মেয়ে জাসমিন আক্তার।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার শুনানিতে আদালতে হাজির হওয়ার উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি থেকে বের হন। পথে বগাডুবী এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে।

তাদের দাবি, তল্লাশির নামে পুলিশ তাদের কাছে ইয়াবা পাওয়ার নাটক সাজিয়ে গ্রেপ্তার দেখায়। এমনকি জোরপূর্বক তাদের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। পরে তাদের একটি গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, আদালতে যাওয়ার পথেই পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা সাজানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিপক্ষের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে শত শত এলাকাবাসী চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এসআই মাসুম আল মামুনসহ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সাংবাদিক, ইউপি সদস্য ও এলাকার মুরব্বিরা থানায় গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

পরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ভুক্তভোগীদের স্বজনরা বলেন, জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেই মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার সময়ই তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা সাজিয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তদন্তাধীন বলে জানানো হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, যদি এটি সাজানো ঘটনা হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হবে না।

এদিকে ঘটনার পরপরই এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন তিনজনকে গ্রেপ্তারের আগে ও পরে পুলিশের তল্লাশি, ইয়াবা উদ্ধারের প্রক্রিয়া এবং মামলার ঘটনাপ্রবাহ কতটা নিয়ম মেনে হয়েছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার