বিজ্ঞাপন
বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, ভুক্তভোগীসহ পুলিশকেও হেনস্তা করছে দালাল!
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
বিজ্ঞাপন
শ্রমিক ভিসায় লাওসে পাঠানোর কথা বলে টাকা ও পাসপোর্ট নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তা সোহেল রানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ নিয়ে থানায় যাওয়ার পর ভুক্তভোগীর টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দিতে সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় এক পর্যায়ে তাকে ফোন করেন তৎকালীন মিরপুর বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।
পুলিশের ভাষ্য, ভুক্তভোগীর টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার জন্য একাধিকবার বলা হলেও সোহেল তা ফেরত দিচ্ছিলেন না। পরে ডিসি মোস্তাক তাকে ফোন করে টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ওই ফোনালাপের একটি রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে পুলিশ কর্মকর্তাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির ও তৎকালীন ডিসি মোস্তাক সরকার। তবে সোহেল রানা বলছেন, পুলিশের সহায়তায় তিনি আগেই বিষয়টি মিটিয়ে ভুক্তভোগীর টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন।
গত ২৩ জুন পল্লবী থানায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন গিয়াস উদ্দীন মোল্লা। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির।
ওসি হাসান বাসির বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু তিনি নানা টালবাহানা করতে থাকেন। পরে খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ভিসা দেওয়ার কথা বলে গিয়াসের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং তার পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
“আমরা একাধিকবার তাকে টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার জন্য বলেছি। তিনি তা মানছিলেন না। এক পর্যায়ে আমাদের ডিসি স্যার তাকে ফোন করে দ্রুততম সময়ে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন।”
ওসি বলেন, “সেই ফোনের কথোপকথন রেকর্ড করে ভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশকেও হেনস্তা করা হচ্ছে।”
গিয়াসের অভিযোগ, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল তাকে লাওসে ওয়ার্ক ভিসায় পাঠানোর কথা বলেন। এ জন্য সোহেলের অফিস সহকারী ফারহান আহমেদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মূল পাসপোর্ট ও ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
বিদেশে পাঠানোর জন্য সোহেলের সঙ্গে তার ৪ লাখ ১০ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন গিয়াস।
তিনি বলেন, গত ১৪ মে তাকে ওয়ার্ক ভিসার পরিবর্তে টুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে সোহেল তাকে ওই ভিসায় লাওসে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় টুরিস্ট ভিসার জরিমানা বাবদ ১ হাজার ৮০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে গিয়াস বলেন, বিদেশ যাওয়ার আশায় সোহেলের কথায় বিশ্বাস করে টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার মূল পাসপোর্টও সোহেলের কাছে থেকে যায়। পাসপোর্ট ফেরত চাইলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সোহেল রানা বলেন, গিয়াসের সঙ্গে একটি ঝামেলা হয়েছিল, যা পুলিশের সহায়তায় দুই মাস আগেই মিটে গেছে। “পাসপোর্ট ও টাকা ফেরত দিয়েছি। কিন্তু কে বা কারা ডিসি স্যারের সঙ্গে আমার কল রেকর্ড ফাঁস করেছে, সেটা আমি জানি না। যে কল রেকর্ড ফাঁস করেছে, তার বিরুদ্ধে আমি থানায় জিডি করছি।” ডিসি মোস্তাক তার কাছে কোনো টাকা চাননি উল্লেখ করে সোহেল বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে বলেছিলেন।”
এ বিষয়ে তৎকালীন মিরপুর বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার বর্তমানে লালবাগ বিভাগে কর্মরত মোস্তাক সরকার বলেন, “গিয়াস একজন জেনুইন ভুক্তভোগী। তার টাকা ও পাসপোর্ট আটকে রেখেছিল সোহেল। আমি ফোন করে কড়া ভাষায় সেই টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দিতে বলেছি।”
কল রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “সেই কল রেকর্ড ফাঁস করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফোনালাপের ভিডিওর নিচে মোস্তাক সরকারের পক্ষে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা গেছে। সেখানে অনেকে ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা করেছেন।