Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যা, প্রেমিকের রোমহর্ষক স্বীকার

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ পিএম

ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যা, প্রেমিকের রোমহর্ষক স্বীকার

বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিখোঁজের ১৮ মাস পর ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিঝুম খাতুনের করুণ পরিণতি ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের জেরে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কথিত প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম (২৩)। পরিচয় না পাওয়ায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে পাবনায় দাফন করা অজ্ঞাত সেই লাশটিই যে নিঝুমের, তা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্ত প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম আদালতের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নিঝুম খাতুন ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ নিখোঁজ হন। ওই দিন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান মাশরিকুল রহমান জিম। সেখানে নিঝুম বিয়ের জন্য চাপ দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জিম তাকে সজোরে থাপ্পড় মারলে নিঝুম অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে রেললাইনের পাশের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন জিম।

ঘটনার চার দিন পর ১৭ মার্চ ২০২৫ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী রেলস্টেশন সংলগ্ন জঙ্গল থেকে এক অজ্ঞাত কিশোরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় পাবনায় তার দাফন সম্পন্ন হয় এবং একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।

এদিকে, নিঝুমকে কোথাও না পেয়ে তার মা তাসলিমা খাতুন মহেশপুর থানায় প্রথমে জিডি ও পরে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ দিন নিঝুমের কোনো সন্ধান না মেলায় জেলা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল যৌথভাবে মাঠে নামে। প্রযুক্তির সহায়তায় ও তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন জিমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের কাছে তিনি নিঝুমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পরে জিমকে সঙ্গে নিয়ে পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থল শনাক্ত করা হয়। সিআইডির ক্রাইম সিনের সংরক্ষিত অজ্ঞাত লাশের ছবি ও পোশাক দেখে জিম নিশ্চিত করেন যে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিঝুমেরই ছিল। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মাশরিকুল রহমান জিম আদালতে নিঝুম হত্যার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এএসআই ইখলাচুর রহমান বলেন, মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসান জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। জিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার