বিজ্ঞাপন
খুবির শিক্ষার্থী হত্যায় উঠে এলো যাদের নাম
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
বিজ্ঞাপন
খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের নামের তথ্য মিলেছে।
তবে এজাহারে নেই অন্যতম অভিযুক্ত মেসের ম্যানেজার গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া মেহেদী হাসান।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে চারজনের নামল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। তবে এ ঘটনায় রবিবার পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। শনিবার রাতে নগরীর হরিণটানা থানায় দায়ের করা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদীর দাবি, ভুলবশত : মেহেদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এখন তিনি তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চান। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় খাজা হল সংলগ্ন মেসে মিল না দিয়ে খাবার খেয়ে ফেলে। এ ঘটনায় খাবার চুরি অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন আজমুল হোসেনকে বেধড়ক মারধর ও নির্মমভাবে নির্যাতন করে। তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
মেসের ছাদে নিয়েও নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে আমজুল চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যায়। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিন, ব্যাচ-১৭ এর রবিন (২৪), একই ডিসিপ্লিন, ব্যাচ-১৯ এর মবিন (২২), ম্যাথমেটিক্স ডিসিপ্লিন, ব্যাচ-১৯ এর সাগর (২২) ও এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিন, ব্যাচ-২৬ এর ওবায়দুল (২০)।
অবশ্য শনিবার দুপুরে নিহত আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, আজমুল শুক্রবার বাড়ি থেকে খুলনায় এসেছিল। রাত ৯টার দিকে ফোনও দিয়েছে; ভালো আছে জানিয়েছে। অথচ অনেক রাতে একটি ছেলে আজমুলের ফোন নম্বর দিয়ে কল করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে। আজমুল নাকি ঝামেলা করেছে! ‘গরিব মানুষ, কোথায় টাকা পাব’ বললেও বলে, দ্রুত আসেন। যে ছেলে রাতে আমাকে চিন্তা করতে বারণ করল, সেই ছেলেকে অন্য ছাত্ররা পিটিয়ে মারল।’
এদিকে রোববার রাতে বাদী কুতুব উদ্দিনের বলেন, ‘আমরা মামলাই করতে চাইনি। ভুলে মেহেদী নাম বাদ পড়েছে। এখন ওই নামযুক্ত করতে চাই।’
তবে এজাহারে আসা কারো নাম বলতে চাননি নগরীর হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।
তিনি বলেন, শনিবার রাতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় শনিবার রাতে নিহত আজমুল হোসেনের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ আছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে কারো নাম তদন্তে উঠে এলে তার নাম সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
ওসি আরো বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পুলিশ মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। তবে বিকাল পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।