বিজ্ঞাপন
স্বর্ণের বারের প্রলোভন দেখিয়ে নারীর চেইন ও টাকা লুট
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বর্ণের বারের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় গোপালগঞ্জের বাসিন্দা সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী স্ট্যান্ড এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বরাতে জানা গেছে, উজিরপুরে বাবার বাড়ি থেকে গোপালগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে ফুল্লশ্রী স্ট্যান্ড এলাকায় ওই নারীর পথরোধ করে সোহেল ও বাবলু। এ সময় তারা ওই নারীকে স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। কথাবার্তার একপর্যায়ে স্বর্ণের বার দেখানোর কথা বলে সেটি তাঁর নাকের কাছে নেওয়া হয়।
এরপর কোনো ধরনের রাসায়নিক বা মাদকজাতীয় পদার্থ প্রয়োগ করে তাকে সাময়িকভাবে কাবু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের কৌশলকে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বলা হলেও কোন পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সুযোগে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৫০০ টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সোহেল ও বাবলু। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দুজনকে ধাওয়া করেন। এ সময় সোহেলকে আটক করা সম্ভব হলেও বাবলু পালিয়ে যায়।
আটক সোহেলের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় বলে জানা গেছে। তার সহযোগী বাবলুর পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি পরিকল্পিত প্রতারণা বা ছিনতাইয়ের অংশ হতে পারে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং আগৈলঝাড়া, গৌরনদীসহ আশপাশের এলাকায় একই কৌশলে আরও কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ হিসেবে যে পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, সেটি আসলে কী ছিল এবং সেটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে- তদন্তে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওই পদার্থকে নির্দিষ্ট কোনো রাসায়নিক বা মাদক হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় পলাতক বাবলুকে আটক, কথিত পদার্থের বিষয়ে তথ্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে সংঘবদ্ধ কোনো চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না- এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একই সঙ্গে স্বর্ণের বার, অলংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস দেওয়ার প্রলোভনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কোথাও না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ফুল্লশ্রী স্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই কৌশলে আরও কেউ প্রতারণার শিকার হয়েছেন কি না, কিংবা এর পেছনে আন্তঃজেলা কোনো চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না- তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।