বিজ্ঞাপন
হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে স্যুটকেস-বস্তায় ভরেন প্রেমিক
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় স্যুটকেস থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)।
তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহতের প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ভুক্তভোগীর এনআইডি কার্ড, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ডলি আক্তার জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকার দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থেকে গোল্ডেন রিফট গার্মেন্টেসে সুইং অপারেটর পদে কাজ করতেন।
চাকরির সূত্রে ৫ বছর আগে মিশনের সঙ্গে পরিচয় ডলির। পরে মিশনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ালে স্বামীর সঙ্গে চরম বিরোধ হয় তার। দুই মাস আগে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তার ৫ বছরের একটি সন্তান রয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব তথ্য জানান গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রফিকুল আক্তার।
মিশনের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মিশনের গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার ভাড়া বাসায় যান ডলি। রাত ৯টার দিকে একসঙ্গে খাবার খান তারা। ডলির খাবারে আগেই ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রেখেছিলেন মিশন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমিয়ে পড়লে গলায় নিজের লুঙ্গি পেঁচিয়ে ও মুখে বালিশচাপা দিয়ে ডলিকে হত্যা করেন মিশন।
হত্যার আগে প্রেমিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তিনি। লাশ চৌকির নিচে রেখে পরদিন বুধবার সকালে গার্মেন্টে কাজে যান মিশন। বিকেলে কারখানা ছুটির পর ফেরার পথে লাশ সরানোর জন্য বাংলাবাজারের একটি দোকান থেকে এক হাজার ৫৫০ টাকা দিয়ে একটি স্যুটকেস, বস্তা, স্কচ টেপ ও বডিস্প্রে কিনে ভাড়া বাসায় ফেরেন মিশন। মধ্য রাতে ঘরে ধাকা বঁটি দিয়ে লাশ দুই টুকরা করেন। কোমরের নিচের অংশ স্যুটকেসে এবং অপর অংশ বস্তায় ভরে স্কচ টেপ দিয়ে মুড়িয়ে প্যাকেট করে রাখেন। বাসা পাল্টানোর কথা বলে বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধু মিল্টনের ব্যাটারিচালিত রিকশায় তুলে স্যুটকেস কালভার্টের নিচে এবং বস্তাটি পাশের ঝোপের ভেতর ফেলে দেন। বস্তা থেকে রক্ত ঝরতে থাকলে মিল্টন কারণ জানতে চাইলে সব ঘটনা খুলে বলে মিশন।
পুলিশ পরিদর্শক আরো বলেন, মিশন তার চেয়ে ১১ বছরের বড় ডলিকে পাগলের মতো ভালোবাসতেন। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও ছিল। স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর মিশন ডলিকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু ডলি সময় নিচ্ছিল। অপরদিকে বয়সে বড়, ডিভোর্সি এবং সন্তান থাকায় বিয়েতে মত ছিল না মিশনের মা বানু আক্তারের। কিন্তু ছেলের জিদের কাছে একপর্যায়ে মা হার মানেন। একদিকে ডলির সময়ক্ষেপণ, অন্যদিকে মায়ের আপত্তি—এই দুই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে ডলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিশন। ঘটনার রাতে খাওয়ার পর মা বানু পাশের ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে ঘর ঝাড়ু দিতে এসে চৌকির নিচে লাশ দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরলে ঘটনা কাউকে না জানিয়ে রাতে ছেলে বাসায় ফিরলে লাশ সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন। এমনকি পরদিন মা-ছেলে মিলে মিল্টনকে ডেকে আনেন।
পুলিশ সুপার মো. রফিকুল আক্তার বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি কালভার্টের নিচে স্যুটকেস ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ স্যুটকেস খুলে নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। পরে পাশের ঝোপ থেকে বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার হয় লাশের ওপরের অংশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ডলির পরিচয় শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও হত্যারহস্য উদঘাটন করে পিবিআই।