বিজ্ঞাপন
ছাত্রশিবির নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড়, অস্ত্র হাতে বহিরাগতদের মহড়া
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
বিজ্ঞাপন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের এক নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবিরের হল সেক্রেটারিকে থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটলে ক্যাম্পাসে উভয়পক্ষেও মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এঘটনায় ছাত্রদল ও বহিরাগতরা প্রধান ফটক এলাকায় অবস্থান নিয়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। এসময় ছাত্রদল ও স্থানীয় বিএনপির হামলায় জামায়াতের দুই কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় মারেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমান। জুহায়ের দাওয়াহ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এবং আলীনূর আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী।
সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে জুহায়ের হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় আলীনুর হঠাৎ এসে তাকে থাপ্পড় মারে। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে আলীনূর তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে হলের ২১৭ নং কক্ষে চলে যায়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে। এর পরপরই শিবির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আলীনূরের রুমের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদেরকে সরিয়ে নিয়ে উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে হল অফিসে আলোচনায় বসেন।
সূত্র আরও জানায়, এসময় ভুক্তভোগী জুহায়ের সেখানে উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডি অলীনূরকে কক্ষ থেকে আনতে যায়। সেখানে শিবির কর্মীদের উত্তেজনায় তাকে কক্ষ থেকে বের করতে না পারায় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ সভা ত্যাগ করেন। বের হতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে অলীনূরকে পুলিশি সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে নিতে গেলে শিবির কর্মীরা তার উপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুসি মারে এবং গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলে।
একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে বহিরাগতদের মহড়া দিতে দেখা যায়। একইসঙ্গে লাঠিসোঁটা হাতে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয় শিবির। সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটক খুলে দেয়। এর পরপরই ছাত্রদল-যুবদল ও স্থানীয় বিএনপির হামলায় প্রধান ফটক এলাকায় শহীদুল ও বাবুল নামের দুই জামায়াত কর্মী আহত হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে সন্ধ্যার পর প্রধান ফটক দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে বাধা উপেক্ষা করে বহিরাগত নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তারা৷
ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছিলাম। এসময় আলীনূর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় মারা শুরু করে। পূর্বে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিলো না। কেন তিনি এই কাজ করেছেন তা আমি জানি না। আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে, ‘তুই বেয়াদব তাই মারছি। যা পারিস করিস। আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই মারছি।’

অভিযুক্ত আলীনূর বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দিলে তাকে থাপ্পড় দেই। তার সঙ্গে আমার পূর্বে কোনো সমস্যা ছিলো না।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ঘটনা জানতে পেরে আমরা সমাধানের উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষকে নিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসি। কিন্তু শিবিরের পক্ষ থেকে সমাধানের পথে না গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে হলের বাইরে আমাদের সদস্য সচিবকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে প্রক্টর অফিসে উভয়পক্ষের আলোচনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রশাসন তদন্ত করে বিষয়টি দেখবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের হল সেক্রেটারির ওপর ছাত্রদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করেছে। শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রদলের বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়েও ক্যাম্পাসে মহড়া দিচ্ছে। এমন ন্যক্কারজনক হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, এখানে দুই পক্ষের মাঝে একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রক্টর অফিসে দীর্ঘ সময় আলোচনার পর রাত ৮টায় উভয়পক্ষ সমঝোতায় আসেন। এসময় ঘটনার দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিতকরণের জন্য ৩ কার্যদিবস সময় দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, হলে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও ক্যাম্পাসের ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিতের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রক্টরিয়াল বডি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, হল প্রশাসনকে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া প্রশাসনও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। তদন্তের আলোকে প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পাসে যেন কোনো বহিরাগতকে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে।