Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

‘সর্বহারা পার্টি’ পরিচয়ে এক কলেজের ৬ শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

‘সর্বহারা পার্টি’ পরিচয়ে এক কলেজের ৬ শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি

বিজ্ঞাপন

ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ছয় অধ্যাপকের কাছে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বহারা পার্টির পরিচয়ে মোবাইলে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অধ্যাপকদের দাবি।

নিরাপত্তা চেয়ে কলেজটির পাঁচজন শিক্ষকের পক্ষে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল।

হুমকি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন, কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল, সহযোগী অধ্যাপক নিলয় কুমার সাহা, সহযোগী অধ্যাপক সজল কান্তি বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার সাহা ও সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায় এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্কর।

গত দুই দিন ধরে এ ফোন করার ঘটনা ঘটেছে।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে অবস্থানকালে অধ্যাপক পরেশ কুমার পালের মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি ‘সর্বহারা পার্টির’ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য। একপর্যায়ে ‘সিরাজ সিকদারের ছোট ভাই মহিউদ্দিন সিকদারের সঙ্গে কথা বলেন’ বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।

অভিযোগ অনুসারে, ফোনদাতা প্রথমে এক লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৫ হাজার ৫০০ টাকা ‘টোকেন মানি’ হিসেবে দাবি করেন। চাঁদার অর্থ দ্রুত পাঠাতে চাপ দিয়ে বলা হয়, ‘চা-পানের দোকানিরাও টোকেন মানি দিয়ে সহায়তা করে। আমাদের সহকর্মীদের জেল থেকে মুক্ত করতে টাকা প্রয়োজন।’ টাকা না দিলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন পরেশ পাল।

সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায় জানান, আমার ফোনে কল করে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে ফোনদাতা তার ছেলের পায়ে গুলি লাগলে যেভাবে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা করবেন সেভাবে পরিচিত জনদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পাঠাতে বলেন।

আরেক সহযোগী অধ্যাপক নিলয় কুমার সাহা বলেন, ফোনদাতারা তাদের ‘সহকর্মীদের’ কারাগার থেকে জামিনে ছাড়াতে অর্থের প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আমার পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কলেজটির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্কর জানান, দু’দিন আগে আমাকেও ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কে আমি ফোনদাতাদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান,এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে। তবে, প্রাথমিকভাবে ধারণা, চরমপন্থী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো প্রতারক চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার