বিজ্ঞাপন
জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল অপসারণ: সাবেক ইউএনও দায় দিলেন মৃত মুক্তিযোদ্ধাকে
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
বিজ্ঞাপন
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধসংলগ্ন জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের মুরাল অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে ম্যুরাল অপসারণের দায় সম্প্রতি মারা যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের ওপর দিয়েছেন মাধবপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম।
জাহিদ বিন কাসেম বর্তমানে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে সাংবাদিকের সঙ্গে ম্যুরাল অপসারণের বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হিসেবে গোলাম মোস্তফা রফিক দায়িত্ব পালনকালে ম্যুরালটি অপসারণ করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি তিনি জানতেন না বলেও দাবি করেন।
সাবেক ইউএনওর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া জাতীয় চার নেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ম্যুরাল অপসারণ করা হলে প্রশাসন বিষয়টি জানার পর কী পদক্ষেপ নিয়েছিল। এ বিষয়ে জাহিদ বিন কাসেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাননি। একইভাবে ম্যুরাল অপসারণের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কোনো সভা, রেজুলেশন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নেরও তিনি ইতিবাচক কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
সম্প্রতি জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যুরাল অপসারণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের কাছে এর বিচার দাবি করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও ভবানীপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এভাবে ম্যুরাল গুলো সরানো একটি প্রতিহিংসার কাজ হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ করে এসেছি। আমরা চাই ম্যুরালগুলো পুনঃস্থাপন করা হোক।”
মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক মোহাম্মদ অলিদ মিয়া বলেন, “এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পরিপন্থী। এর দায় উপজেলা প্রশাসনকে নিতে হবে। তারা এ কাজটি করেছে কি না, আর না করলে অনুমতি ছাড়া মুরাল অপসারণের ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও তদন্ত হওয়া দরকার।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদু শহীদ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে আমাদের ধারণ করতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে। কেউ যদি মনগড়াভাবে এমন কাজ করে, সেটি জাতি সহ্য করবে না।”
মাধবপুরের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মেহেদী হাসান বলেন তিনি আসার পর জাতীয় চার নেতা অপসারণের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি মাধবপুরে যোগদান করার পর সরকারের কোনো নির্দেশনা অনুযায়ী ছবিগুলো সরানো হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও এগুলো অপসারণ করা হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও অপসারণ করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটু বিনির্মাণ, সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের বক্তব্যে ম্যুরাল অপসারণের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ম্যুরাল অপসারণের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত, পুনঃস্থাপন বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
ছবি: মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার মুরাল অপসারণের দৃশ্য, ইনসেটে সাবেক ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম।