Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর অভিযোগে আটক যুবক, থানায় টাকার বিনিময়ে ‘আপস’

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩২ এএম

আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর অভিযোগে আটক যুবক, থানায় টাকার বিনিময়ে ‘আপস’

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মোবাইল ও ই-মেইল হ্যাক করে স্বামী-স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে আটক এক যুবককে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় থানায় বসেই দুই পক্ষের মধ্যে আপস হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নথি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মুক্তাগাছা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনডাঙ্গারচর এলাকার মো. আব্দুল্লাহর (২৪) মোবাইল ফোন ও ই-মেইল হ্যাক করে তার ও তার স্ত্রীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট মুক্তাগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আব্দুল্লাহ।

জিডির প্রেক্ষিতে ২৮ আগস্ট রাতে ত্রিশাল থানা পুলিশের সহযোগিতায় ত্রিশাল উপজেলার বিয়ারা উত্তরপাড়া এলাকা থেকে আরমান আহম্মেদ (২১) নামে এক যুবককে আটক করে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর পুলিশ সদস্যরা আরমানের পরিবারের সদস্যদের টাকা-পয়সা নিয়ে ত্রিশাল থানায় আসতে বলেন। বিষয়টি সদর ও মুক্তাগাছা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিলের কাছে পৌঁছালে তিনি ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি জেনে যাওয়ায় ওই রাতে কোনো সমঝোতা করা সম্ভব নয় জানিয়ে পরিবারটিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মুক্তাগাছা থানায় আসতে বলা হয়।

শনিবার সকালে উভয় পক্ষ মুক্তাগাছা থানায় উপস্থিত হলে ওসি কামরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় দর-কষাকষির একপর্যায়ে এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চুক্তি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আটক আরমানের ভাই আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ওসি নিজেই পুরো বিষয়টি ডিল করেছেন। টাকা নিয়ে থানার ভেতরেই বিষয়টির সমাধান করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, লেনদেনের টাকা থেকে একটি অংশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন অভিযোগকারী মো. আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, পুলিশের মধ্যস্থতায় লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে তারা আপস করেছেন। তবে তিনি কত টাকা পেয়েছেন জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মীমাংসাপত্রে দেখা যায়, বিবাদী আরমান ভবিষ্যতে ওই ছবি প্রচার করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাদী তার করা জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন।

সদর ও মুক্তাগাছা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, অন্য একটি মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে মুক্তাগাছা থানায় গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই শুনেছি। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘুস লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম। তবে অভিযোগের বিষয়ে একাধিক তথ্য-প্রমাণের কথা জানানো হলে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় অবশ্যই মামলা হওয়া দরকার ছিল। ওসি বিষয়টি আমার কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। ঘুস লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। আসামিকে পুনরায় গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার