Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

৪ বছর ধরে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, বিএনপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ এএম

৪ বছর ধরে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, বিএনপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে খুঁজছে পুলিশ। তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এসময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ‘ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য লোকজন দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার