Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

ভাবিকে নিয়ে দেবরের কাণ্ড, থানায় তুলকালাম—সংঘর্ষে আহত ৫

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

ভাবিকে নিয়ে দেবরের কাণ্ড, থানায় তুলকালাম—সংঘর্ষে আহত ৫

বিজ্ঞাপন

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা থানার সামনে ও ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচরা গ্রামের ইকরাম শেখ ও আব্দুল্লাহ শেখ আপন দুই ভাই। বড় ভাই ইকরাম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করলেও ছোট ভাই আব্দুল্লাহ কৃষিকাজ করেন।

প্রায় এক বছর আগে পার্শ্ববর্তী সোনাখলা গ্রামের বাঁকা শেখের মেয়ে পূর্ণিমা আক্তারের সঙ্গে ইকরামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন প্রয়োজনে ছোট ভাই আব্দুল্লাহ ভাবি পূর্ণিমাকে আনা-নেওয়া করতেন। এ সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের।

কয়েক মাস আগে ইকরাম মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার শুরু করেন। এরই মধ্যে গত বুধবার দুপুরে পূর্ণিমা বাড়িতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে দেবর আব্দুল্লাহর সঙ্গে পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে সাভার থেকে তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসেন।

শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে থানায় সালিশ-মীমাংসার জন্য দুই পক্ষের সদস্যরা জড়ো হন। মীমাংসা শুরু হওয়ার আগেই পূর্ণিমা ও দুই ভাইয়ের মধ্যে টানাটানি ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে পূর্ণিমা দৌড়ে থানার ভেতরে ঢুকে পড়েন। এতে থানার ভেতরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে পূর্ণিমা তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তিনি স্বামীর ছোট ভাই আব্দুল্লাহর সঙ্গে পালিয়ে যান। তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়ার পর তারা বিয়েও করেছেন।

পূর্ণিমার বাবা বলেন, মেয়েকে উদ্ধারের পর বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের সদস্যদের নিয়ে থানায় আসেন তারা। সেখানে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ ও পূর্ণিমাসহ পাঁচজন আহত হন। আহত আব্দুল্লাহকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পূর্ণিমাকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, থানার গেটের সামনে এক ব্যক্তির স্ত্রীকে তার ছোট ভাই বিয়ে করার বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ সময় একজন নারী দৌড়ে থানার ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে তার অভিভাবকরা তাকে নিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার