Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

নাপিতের সিরিয়াল না পেয়ে ১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটেন শিবির নেতা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ এএম

নাপিতের সিরিয়াল না পেয়ে ১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটেন শিবির নেতা

বিজ্ঞাপন

নাপিতের দোকানে গিয়ে দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে ভালো লাগত না। তাই একসময় নিজেই নিজের চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর কেটে গেছে ১৭ বছর।

দীর্ঘ এই সময়ে নাপিতের কাছে না গিয়ে নিজের চুল নিজেই কেটে আসছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম। সম্প্রতি তার ফেসবুক ওয়ালে এই ব্যতিক্রমী অভ্যাসের একটি ভিডিও সামনে আসে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ভবানীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে নাপিতের দোকানে সিরিয়াল না পাওয়ায় বাজার থাকা থেকে একটি কাঁচি ও চিরুনি কিনে নিজের চুল নিজেই কাটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরুতে বিষয়টি ছিল জেদ, রাগ ও অনেকটা প্রয়োজনের তাগিদে। তবে ধীরে ধীরে সেটিই পরিণত হয় দীর্ঘদিনের অভ্যাসে।

এখন চুল কাটার জন্য তার আর নাপিতের দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। নিজের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী আয়না সামনে রেখে নিজেই চুল কেটে নেন। এতে একদিকে যেমন সময় বাঁচে, অন্যদিকে চুল কাটার জন্য কারো ওপর নির্ভর করতে হয় না।

নিজের চুল নিজে কাটার বিষয়ে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই দিকে একজন নাপিত ছিল ২০০৬ সালের দিকে। তিনি খুব সুন্দর করে চুল কাটতেন। তার কাছে প্রায় সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও সিরিয়াল পাওয়া যেত না৷ আমি তখন হাফেজি মাদরাসায় পড়তাম। আমাদের শুক্রবার একদিন করে ছুটি থাকতো৷ ওই সময় ছুটির দিন মানে অনেক কিছু। সপ্তাহে সাতদিন বন্দি এবং একদিন ছুটি পাওয়া যায়।

শুক্রবার একদিন চুল কাটতে গিয়ে প্রায় একবেলা দাঁড়িয়ে থেকেও সিরিয়াল পাওয়া যায়নি৷ পরের সপ্তাহে শুক্রবার আবারো গিয়ে সিরিয়াল নিয়ে থাকি। আমার আগে আর তিনজন ছিল তখন আমার ক্ষুধাও লেগেছিল। ভাবলাম তিনজনের চুল কাটতে কাটতে আমি বাড়ি থেকে খেয়ে আসতে পারবো। বাড়িতে আসার কারণে আমার সিরিয়ালটা মিস হয়ে যায়৷ পরে আমি নাপিতকে অনেক অনুরোধ করলাম যে ভাই আমার একটা ছুটির দিন আমার চুলটা কেটে দেন৷

নাপিত কোনোভাবে আমার চুল কেটে দিবে না৷ তখন মনের মধ্যে জেদ উঠলো৷ আমি তখন ওনার হাতের দিকে খুব খেয়াল করলাম কীভাবে কাঁচি ধরেন, কীভাবে চিরুনি ধরেন৷ ওইদিন বাজারে গিয়ে বাজার থেকে একটা কাঁচি ও চিরুনি কিনে বাড়িতে আয়নার সামনে ট্রাই করতে থাকি কিন্তু ঠিকমতো হয় না।

তখন ভাবলাম এটা ভালোভাবে ট্রায়াল দিতে হবে। কাকে দিয়ে ট্রায়াল দেব ভাবতে থাকি। তখন মাদরাসার এক ছোট ভাইকে বুঝলাম যে তোমাকে সুন্দর করে চুল কেটে দিব৷ তার চুল কেটে দেওয়ার পর দেখা গেল যে হিতে বিপরীত হয়ে গেছে, এমন বিশ্রী হয়ে গেছে যে, ছেলেটা আয়না দেখে কান্না শুরু করে দিয়েছে৷ পরে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে দোকান থেকে খাবার নিয়ে দিয়ে একটা ব্লেড কিনে তাকে ন্যাড়া করে দিয়েছি৷

তিনি বলেন, ওখান থেকে একটা আইডিয়া নিয়ে তারপর মানুষের চুল সাইজ করে দিতাম। এভাবে ধীরে ধীরে আইডিয়া চলে এলো৷ আমাদের মাদরাসাটা বড় ছিল, শুক্রবার অনেক ছাত্রের চুল কেটে দিতে দিতে পুরোপুরি চুল কাটা শিখে ফেললাম।

একদিন এক শিক্ষক দেখে বলেন, তোমার চুল কাটা তো সুন্দর। তুমি চুল কাটার জন্য টাকা নিও, পরে তিন টাকা করে নিয়ে চুল কেটে দিতাম, আবার বৃহস্পতিবার টাকা তুলে বন্ধুরা মিলে সেই টাকা দিয়ে আমরা সবাই মিলে নাস্তা করতাম৷ এরপর যখন চুল টাকার জন্য সিরিয়াল বেশি হতে শুরু করলো, তখন ৫ টাকা তারপর ৭ টাকা নেওয়া শুরু করি।

কিন্তু অন্যের চুল কেটে দেওয়া হয়, টাকা হয়, কিন্তু আমি নিজে অন্য নাপিতের থেকে চুল কাটি। তখন আমি ভাবলাম নিজের চুল নিজে কাটলে কেমন হয়। এরপর আয়নার সামনে গিয়ে নিজে নিজে চেষ্টা করতে থাকি। প্রথমে ভালো না পারলেও ধীরে ধীরে আন্দাজ করে করে কাটতে থাকি৷ একটা সময় নিজের চুল নিজে কাটা শিখে যাই। বর্তমানে অনেক দ্রুত এবং না দেখেও প্রায় নিখুঁতভাবে চুল কাটতে পারি।

মুজাহিদুল ইসলামের সহপাঠী কারিমুল ইসলাম বলেন, মুজাহিদুল ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিভার অধিকারী। আমরা যখন একসঙ্গে পড়াশোনা করতাম তখন সে আমাদের অনেকের চুল বিনা পারিশ্রমিকে কেটে দিয়েছে। চুল কাটার প্রতি তার আগ্রহ ও দক্ষতা তখন থেকেই ছিল। একসময় সে এমনভাবে নিজের দক্ষতা অর্জন করে যে, আয়নায় না দেখেও নিজের চুল নিজেই কাটতে পারে। বিষয়টি আমাদের কাছে তখন বেশ আশ্চর্যের ছিল।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার