বিজ্ঞাপন
পরকীয়ার অভিযোগে নারীকে ইউপি চেয়ারম্যানের জুতাপেটা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বলাকিয়া গ্রামে পরকীয়া-সংক্রান্ত একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের ছোট-বড় অনেক মানুষের উপস্থিতিতে ওই নারীকে চুলের খোঁপা ধরে জুতা দিয়ে মারছেন ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের সবজি বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে ওই নারী ও সংশ্লিষ্ট পুরুষকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট পুরুষের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বা তার কোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েনি। অন্যদিকে, নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার কারণে ওই নারীর পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যরাও সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ওই নারী প্রবাসী স্বামীর সংসারে থাকা অবস্থায় পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় লোকজন গভীর রাতে তাদের হাতেনাতে আটক করেন। পরদিন এ ঘটনায় সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
তিনি দাবি করেন, সালিশ বৈঠকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাদের সুরক্ষা দিতে স্থানীয় মুরুব্বিদের পরামর্শে ওই শাস্তি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। ওই নারীকে কী কারণে এভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।