বিজ্ঞাপন
খাল পুনঃখনন শেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত গেল ৬৮ লাখ টাকা
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় এ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি কৃষকদের সেচসুবিধা বাড়ানো, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত কাটাখালী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বাড়ানো এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এ প্রকল্পের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৩ মে ২০২৬ পয়েস্তিরচর এলাকায় প্রকল্পটির খননকাজের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খননকাজ শেষ করা হয়। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা গত ১৩ আগস্ট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।
এছাড়া খালটি দীর্ঘমেয়াদে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজে লাগানোর জন্য ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খালের দুই পাশের মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা যায়, খননকাজে প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ভরাট খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিব রকিবুল হাসান বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ গত ১৩ মে শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে সেগুলোও মেরামত করে দেওয়া হবে।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি ওই এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জাগো নিউজকে বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরপরই ওই এলাকার সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কৃষকদের ফসলের জমিতে সেচের পানির সংকট অনেকটাই কমবে। এতে শেরপুরে সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি। একই সঙ্গে খালের দুই পাশে গাছ লাগানোর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশও সুন্দর হয়েছে। প্রকল্পের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।