বিজ্ঞাপন
আইসিইউতে হাতকড়া পরে ভাইরাল আওয়ামী লীগ নেতা মনির খানের মৃত্যু
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান মনির খান (৪৮) মারা গেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। মনির খানের স্বজনদের দাবি, সেই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর একে একে তার বিরুদ্ধে থাকা সবকটি মামলায় জামিন মঞ্জুর হলেও শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তিনি আর জীবিত অবস্থায় কারাগার বা হাসপাতাল থেকে বের হতে পারেননি; অবশেষে মৃত্যুর মাধ্যমেই মিলল তার স্থায়ী মুক্তি।
মৃত মিজানুর রহমান মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টু রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ৬টি এবং পটুয়াখালী সদর থানায় ২টিসহ মোট ৮টি মামলা ছিল। প্রায় ১১ মাস ঢাকা ও পটুয়াখালী কারাগারে বন্দী থাকার পর পর্যায়ক্রমে মামলাগুলোতে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে তাকে আটক রাখা হয়। তার স্ত্রী, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোসাম্মদ সালমা জাহানও স্বামীর সাথে শোন অ্যারেস্ট হয়ে বেশ কিছু দিন কারাবন্দী ছিলেন।
স্ত্রী সালমা জাহান জানান, গত ৯ই জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় মনির খান মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কারাগার থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৪ই জুন ঢামেকের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং এর দুদিন পর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। প্রায় দুই মাস আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার বিকেলে তার জীবনাবসান ঘটে।
সালমা জাহান আরও জানান, আইসিইউতে থাকা অবস্থায়ই ৩০ জুলাই তার সর্বশেষ মামলাটিতে জামিন মঞ্জুর হয়। তার আগেই বাকি ৭টি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। হাতকড়া পরা ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত পুলিশ হাতকড়া খুলে নিলেও ততক্ষণে তার স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছিল।
মৃত চাচা আবদুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠ প্রাঙ্গণে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।