বিজ্ঞাপন
‘জুলাই যোদ্ধা’ রিয়াজ পুলিশের নথিতে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
বিজ্ঞাপন
সাভারের রাজপথে জুলাই গণআন্দোলনের সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে টিয়ারশেল আর গুলির মুখে যে তরুণ লড়েছিলেন, বছর ঘুরতেই সেই তরুণই এখন পুলিশি নথিতে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ পরিচয়ে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী মেহেদী হাসান রিয়াজকে (২৫) গ্রেফতার করে মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তাকে হয়রানিমূলকভাবে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, সাভার নিউ মার্কেটের ভূগর্ভস্থ তলার ‘আদিল এক্সপোর্ট’ নামের একটি দোকানে দীর্ঘদিন সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন রিয়াজ। গত ১৩ জুলাই কর্মস্থল থেকেই তাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন আদালতে পাঠানো চালান নথিতে তার রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে লেখা হয় তিনি —‘ছাত্রলীগ কর্মী’।
পরিবারের দাবি, রিয়াজ কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বরং গত বছরের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে রাজপথে ছিল।
মূলত, একটি ব্যবসায়িক বিরোধ ও আত্মীয়তার সূত্র ধরে তৈরি হওয়া শত্রুতার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ তাকে হত্যা মামলায় জড়িয়েছে। এরপর প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সাভার মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ প্রভাবিত হয়ে রিয়াজকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখেন।
রিয়াজের বোন বলেন, আমরা দুই ভাইবোনই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। ১৯ জুলাইও ভাই রাজপথে ছিল। অথচ তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর পুলিশ রিয়াজকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে মামলার নথিতে উল্লেখ করেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আন্দোলনের সহযোদ্ধা ও সাভার উপজেলা জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, রিয়াজ সামনের সারির আন্দোলনকারী ছিল। টিয়ারশেলের মধ্যে সহযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছে। সেই রিয়াজ কীভাবে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়? এটা আমারও প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা না হয়েও এসআই নেয়ামত উল্লাহ রিয়াজকে গ্রেফতারে ভূমিকা রেখেছেন। তাই এখানেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে নেয়ামতুল্লাহ কারো কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে রিয়াজকে ছাত্রলীগ আখ্যা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই চম্পক বড়ুয়া বলেন, রিয়াজ এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, তদন্তে তার কোনো সম্পৃক্ততা না পেলে আইন অনুযায়ী চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।