Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

জুলাইযোদ্ধাকে মারধর করে বের করে দিল বিএনপি নেতাকর্মীরা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

জুলাইযোদ্ধাকে মারধর করে বের করে দিল বিএনপি নেতাকর্মীরা

বিজ্ঞাপন

শরীয়তপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধাদের মারধর ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিয়েছেন। 

তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনার বেশকিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠান শুরুর দিকে জুলাইযোদ্ধাদের কয়েকজন উপস্থিত হলে হঠাৎ করে চড়াও হন শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী। এ সময় গেজেটেড জুলাইযোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, মারধর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে লাঞ্ছিত করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বেশকিছু ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর বিক্ষোভ করেন আহত জুলাইযোদ্ধা, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী জাকির হোসেন মিন্টু ও ইমরান আল নাজিরসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিচ্ছেন। এরপর তারা কক্ষের বাইরে এলে মাহবুব মোর্শেদ টিপু জুলাইযোদ্ধা জাকির হোসেন আদরকে মারধর করছেন। তাকে চড়-থাপ্পড় দিতেও দেখা যায়।

আহত জুলাইযোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, আমরা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর হঠাৎ করে বিএনপির লোকজন হাঙ্গামা শুরু করে। আমি একজন গেজেটেড জুলাইযোদ্ধা, আমি জুলাই আন্দোলনে আহত হলে সরকার তদন্ত করেই আমাকে জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে বিএনপি নেতা টিপু আমাকেসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর ধরে বের করে দেন। আমাকে মেরে তারা আহত করেছেন, যদি অন্যরা আমাকে রক্ষা না করতো, তাহলে হয়তো মেরে ফেলতো তারা। 

তিনি বলেন, আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছি, সেই রক্তের ওপর ভর করে তারা এখন সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। আমাদের যে মারধর করা হয়েছে, সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা তা দেখতে চাই।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ইমরান ও জাকিরকে চড় থাপ্পড় ও কিল-ঘুসি মেরে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন মাহবুব মোর্শেদ টিপুসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা। আমাদের বিএনপির লোকজন মারধর করেছে, তা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই। প্রশাসন এখানে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আমরা চাই, এ ঘটনার বিচার হোক।

অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে বড় অবদান বিএনপির, যেটা জামায়াতের আমিরও স্বীকৃতি দিয়েছেন, বলেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের মাস্টার প্ল্যান ছিল তারেক রহমানের। অভ্যুত্থানে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির যত লোক আহত নিহত হয়েছে তা অন্য কোনো দলের হয়নি। কিন্তু শরীয়তপুরের ইমরান আল নাজিরসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা তারেক রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কটূক্তিমূলক লেখালেখি করে থাকেন। তারা এই অনুষ্ঠানে এসেও এ ধরনের কটূক্তিমূলক কথা বলায় আমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তাদের বের করে দিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের বক্তব্য না দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ করেছি। তবে যে অভিযোগটি এসেছে, তা জেনে জানাতে পারব। কেননা ঘটনাটি অনুষ্ঠান শুরুর আগে হলে হতে পারে। যখন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। তখন এ ঘটনা ঘটেনি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার