Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের বিভিন্ন চিহ্ন

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম

একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের বিভিন্ন চিহ্ন

বিজ্ঞাপন

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের শরীরে আঘাতের বিভিন্ন চিহ্ন থাকায় ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ ও সুরতহাল শেষে রাত ৮টার দিকে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫), তাঁর মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগম (৯৩)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনিরা বেগম স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। বড় ছেলে ফয়সাল ও মেয়ে রামিসা ঢাকায় থাকেন। আহাদ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লাইনশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মনিরা বেগম স্থানীয় সাইনবোর্ড বাজারের একটি হোটেলে কর্মরত ছিলেন।

সাইনবোর্ড–বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে একটি টিনের ঘরে মা–ছেলে বসবাস করতেন। দুই ছেলের জন্য একটি নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা শেষ না হওয়ায় তাঁরা পুরোনো ঘরেই থাকছিলেন।

একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

নিহতদের স্বজন স্বপন বলেন, তাঁর দাদি রাশিদা বেগম ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। পরিবারের তিন সদস্যের এমন মৃত্যু তাঁদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, আহাদ এলাকায় সবার পরিচিত ছিলেন এবং প্রয়োজন হলে মানুষের কাজে সহযোগিতা করতেন। পরিবারের তিন সদস্যের এমন মৃত্যুতে এলাকাবাসী হতবাক।

ঘটনার খবর পেয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিদুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং কচুয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। তারা আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে।

কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ হাসান বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধারের সময় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, ঘটনাটি অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে ঘটেছে; এমনকি দুই দিন আগেও হয়ে থাকতে পারে। শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্নের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, রোববারের পর থেকে নিহতদের কাউকে দেখা যায়নি। তবে পরিবারের সদস্যরা খুব বেশি মেলামেশা না করায় বিষয়টি নিয়ে কেউ তেমন খোঁজ নেননি। পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং বিষয়টি জানাজানি হয়।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, মরদেহে পাওয়া আঘাতের চিহ্নের কারণে ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার