বিজ্ঞাপন
সিসিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অভিযুক্ত’র দাবি— ‘গলদ আমার নয়, তার’
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
বিজ্ঞাপন
সিলেট নগরের জল্লারপাড়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে মাত্র তিন ফুট রাস্তার ওপর পাঁচতলা ভবন নির্মাণ, প্রতিবেশীর আলো-বাতাস চলাচলের অধিকার হরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ ও বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নগরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুতর অভিযোগ তোলেন জল্লারপাড়ের বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়সর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে কয়সর রহমান জানান, তার বাসার পাশের ১৮ নম্বর বাসায় বসবাস করেন সিসিকের কর্মকর্তা মো. রজি উদ্দিন খান ও তার পরিবার। নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে সিসিকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও সেফটি গ্যাপ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোনো বৈধ নকশা ছাড়াই মাত্র তিন ফুট রাস্তার ওপর ভবনটির পঞ্চম তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেছেন তিনি।
সীমানা ঘেঁষে ভবন তোলায় গত ২০ বছর ধরে তারা স্বাভাবিক আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা ১৮৮২ সালের সুবিধা অধিকার আইনের ১৫ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। এছাড়া ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ফায়ার এক্সিট না থাকায় পুরো এলাকা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কয়সর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মাস্টাররোল থেকে চাকরি শুরু করে নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়া রজি উদ্দিন বিগত সরকারের আমলে সিসিক কার্যালয়কে রাজনৈতিক আড্ডাস্থলে পরিণত করেছিলেন। ঠিকাদারদের বিল আটকে কমিশন আদায় এবং ঘুষের বিনিময়ে নগরের বিভিন্ন অবৈধ ও নকশাবহির্ভূত ভবনের অনুমোদন দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে জল্লারপাড়ের ৩ নম্বর বাসা, লাল মিয়া কলোনির একাধিক ভবন ও হাউজিং এস্টেট এলাকার উদাহরণ তুলে ধরা হয়।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, অর্জিত বিপুল অবৈধ অর্থ দিয়ে রজি উদ্দিন গোয়াবাড়ি এলাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের নামফলকহীন বিলাসবহুল বাংলো, স্ত্রী ও স্বজনদের নামে একাধিক জমি, ৪৫ লাখ টাকার ব্যক্তিগত গাড়ি এবং জীবনবিমা স্কিম করেছেন। এমনকি দৈনিকভিত্তিক মাস্টাররোল শ্রমিকের ভুয়া তালিকা দেখিয়ে নিয়মিত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কয়সর রহমান জানান, সিসিকে লিখিত আবেদন জানিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং গত ৩০ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে রজি উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে সিসিকের ওই প্রকৌশলীকে বরখাস্ত, অবৈধ অংশ অপসারণ এবং দুদকের মাধ্যমে তার সমস্ত সম্পদের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. রজি উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, গলদ আমার নয়, তার। তার ভবনের অনুমোদন না পাওয়ায় অহেতুক আমার উপর ক্ষেপেছেন কয়সর সাহেব। মূলত উনার ভবনের সম্মুখ ভাগ কবরস্থান। এসব বিষয় ঢাকতেই তিনি আমাকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করছেন। আমি মানহানির মামলা করব।