বিজ্ঞাপন
একসঙ্গে মাদ্রাসা সুপার ও পোস্টমাস্টার পদে চাকরি আ.লীগ নেতার
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা সুপার ও পোস্টমাস্টার পদে চাকরি করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ।
তিনি উপজেলার পূর্ব এখলাছপুরের এমপিওভুক্ত দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার (বর্তমানে মামলাজনিত কারণে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত) ও চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব এখলাসপুর সাব-পোস্ট অফিসে অতিরিক্ত বিভাগীয় (ইডিএ) পোস্টমাস্টার হিসেবে চাকরি করছেন। দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন।
এছাড়া মাওলানা ইকরাম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি তার এই দ্বৈত পদে চাকরি করার তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এছাড়া গত ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহের ঘটনায় মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হন। বর্তমানে তিনি মাদ্রাসা সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন না করলেও শিক্ষক হিসেবে বিধি অনুযায়ী এমপিও সুবিধা পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ বলেন, কয়েক মাস আগে পোস্টমাস্টারের চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তবে গত জুন মাসের বেতন গ্রহণের তথ্য দেখানো হলে তিনি বলেন, কাজ করেছি, তাই বেতন নিয়েছি। পরে আবার দাবি করেন, সেই বেতনের অর্থ ফেরত দিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা পোস্টমাস্টার আনিছুর রহমান জানান, মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ মাদ্রাসা সুপার পদে চাকরির করার তথ্য গোপন করে পূর্ব এখলাছপুর সাব-পোস্ট অফিসে ইডিএ পদে চাকরি করেছেন। জুন মাসের বেতনও তিনি গ্রহণ করেছেন। পরে বিষয়টি জেনে আমি তা নিয়ে নিয়েছি। তিনি আমার কাছে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তবে জেলা পোস্ট পরিদর্শক মৌখিকভাবে তার বেতন আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইউনিয়ন পোস্টমাস্টারদের বেতন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেওয়া হলেও আইবাস++ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। ইকরাম হোসেন হামিদ পোস্টমাস্টার হিসেবে আইবাসে বেতন নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন।
চাঁদপুর জেলা পোস্ট পরিদর্শক ফারুক খান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। একটি পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাস থেকে তার নামে আর বেতনের রোল যাবে না।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একসঙ্গে দুটি পদে চাকরি করতে পারেন না। মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি স্বীকার করে পোস্টমাস্টার পদ থেকে গত ৩০ এপ্রিল দেওয়া একটি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও এতে কোনো রিসিভিং বা পদত্যাগ গ্রহণের কোনো স্বাক্ষর নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।