Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

২ মাসের শিশুর ভিডিও ভাইরাল, জানা গেল আসল ঘটনা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

২ মাসের শিশুর ভিডিও ভাইরাল, জানা গেল আসল ঘটনা

বিজ্ঞাপন

নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরিবারের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

পারিবারিক বিরোধের জেরে উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে সামাজিকমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এটি নজরে এলে বিষয়টি নিয়ে মাধবদী থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে।

এরপর অভিযুক্ত নারী লতা আক্তারসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল অভিযুক্তের স্বামী ও বাবাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে মামলা ও গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি বলেন, নরসিংদী প্রবেশন অফিসার কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন।

এর আগে ১৩ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায়, একজন নারী ছোট এক শিশুর পা মুচড়ে দিচ্ছেন। এটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করা হয়। বলা হয় পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। যদিও শিশুটির পরিবার বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পা ভেঙে ফেলা হয়নি।

ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের সায়েবা বেগম ও জহিরুল হক জহির দম্পতির সন্তান। অপরদিকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন - শিশুর চাচি লতা আক্তার (৩২), লতার স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং লতার বাবা আলমাছ মিয়া (৬০) ।

মামলার এজহারে বলা হয়, জন্মের পর থেকেই শিশুটি বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে ছিল অসুস্থ থাকায়। প্রায়ই ঘরে কান্না করতো। বিষয়টি শিশুর মায়ের সন্দেহ হলে গোপনে ভিডিও ধারণের পন্থা অবলম্বন করেন। এ ছাড়া তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ থাকতো প্রায়ই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির চাচি  লতা আক্তার ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশুর একটি পা জোরে মুচড়ে দিয়ে দৌড়ে চলে যান। পরে শিশুটির মা কান্না শুনে দৌড়ে এসে দেখেন অস্বাভাবিকভাবে শিশুটি কান্না করছে। 

এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা জহিরুল হক জহির বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে আমার শিশুসন্তানকে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী লতা আক্তার আমাদের অগোচরে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী গত ১১ জুলাই বিকালে ঘরের ভেতর একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও অন রেখে চলে যায়। শিশুটি কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখে লতা শিশুটির একটি পা মুচড়ে দেয়। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙেনি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে। এজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার বিষয়েও রাজি হইনি আমরা। পরে শুনেছি, মামলা হয়েছে।

মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঘটনা সম্পর্কে জানতে শিশুটির মা ও বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙেনি। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত তিন জনের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত লতা পলাতক থাকলেও তার স্বামী ও বাবাকে গ্রেফতার করেছি আমরা। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার