বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে। বিদ্যালয়টির অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র হওয়ায় ঠিকমতো বেতন পরিশোধ করতে পারে না।
এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছিল। এ সংকট কাটাতে পর্যটক ও যাত্রীবাহী নৌকা চালাতেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফলে ওই শিক্ষকের আর নৌকা চালাতে হবে না।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম হবে ‘তিন্দু সরকারি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।
এর আগে বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়া গেছে এবং জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে থানচির তিন্দু এলাকার সেই স্কুলকে যেন জাতীয়করণ করা হয়। আজকে মহান সংসদে এ স্লিপ পাঠিয়েছেন।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন ছুটির দিনগুলোতে থানচি–তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করেন। যা আয় হয় তার এক তৃতীয়াংশ শিক্ষকদের বেতনের পেছনে খরচ করেন।
শুধু চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা সহকর্মীদের বেতন হিসেবে দিয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগ দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়। এরপর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের উদ্যোগ নিতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।