বিজ্ঞাপন
বড়াইগ্রামে বিক্রি হচ্ছে মরুভূমির প্রাণী দুম্বা
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলার সর্ববৃহৎ পশু বিক্রয় কেন্দ্র নাটোরের বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাটে চমক সৃষ্টি করেছে মরুভূমির প্রাণী দুম্বা। শুক্রবার (২২ মে) কুরবানির আগের সাপ্তাহিক শেষ হাটে তিনটি দুম্বা কেনাবেচা হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর থেকে আব্দুর রহিম নামে একজন খামারি দুম্বা তিনটি নিয়ে এসেছিলেন। পরে কুষ্টিয়া থেকে আসা দুজন ব্যক্তি মোট দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা দাম দিয়ে দুম্বাগুলো কিনে নেন। এছাড়া হাটের নিকটবর্তী হওয়ায় খামার পাথুরিয়া গ্রামের হান্নান সরকারের খামারে নিজের পালন করা দুম্বা বিক্রি করতে দেখা গেছে। শত বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত এ হাটে এবারই প্রথম দুম্বা বিক্রির ইতিহাস রচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খামারি আব্দুল হান্নান জানান, তার খামারে দুম্বা রয়েছে ৬০টি। বর্তমানে তার মধ্যে ৪০টির বেশি দুম্বা কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জাত, আকার ও গঠনভেদে এসব দুম্বার দাম হাঁকানো হচ্ছে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বিক্রিও হয়েছে। কুরবানি এলে দুম্বার চাহিদা বেড়ে যায়।
তিনি জানান, অনেকেই তার খামার থেকে দুম্বা নিয়ে স্বল্প পরিসরে খামার শুরু করেছেন। তিনি নিজের খামারের পাশাপাশি অন্যদের উৎপাদিত দুম্বাও বিক্রিতে সহায়তা করেন।
তিনি আরও জানান, গত কুরবানিতে নিজের এবং অন্যদের মিলিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ৮০টি দুম্বা বিক্রি করেছিলেন। এবার ক্রেতাদের বিপুল সাড়া পাওয়ায় এবং নিজ এলাকাতেও বিক্রি হওয়ায় এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
খামারি আব্দুল হান্নান জানান, ২০১০ সালের দিকে তার মাথায় ব্যতিক্রম কিছু করার চিন্তা আসে। সেই চিন্তা থেকে মরু অঞ্চলের গারল চাষ শুরু করেন। পরে গারলের সঙ্গে খামারে যুক্ত করেন দুম্বা। প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে নারী ও পুরুষ জাতের সমন্বয়ে ৩০টি দুম্বা আনা হয়। পরে লাভের মুখ দেখায় বাড়ানো হয়েছে খামারের পরিধি। এখন ৩২ বিঘার বিশাল আয়তনের খামারে তিনি ছাগল ও গারলের পাশাপাশি দুম্বা পালন করেন। মরুভূমির প্রাণী হলেও এসব দুম্বাকে জমির তাজা খাস কেটে খাওয়ানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন দুই বেলা খড় ও ভুসি খাওয়ানো হয় বলে তিনি জানান।
মৌখাড়া হাটের ব্যবসায়ী মফিদুল ইসলাম বলেন, জেলার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় পশুর হাট। এ হাটে অতীতে কোনো দিন দুম্বা বিক্রি হতে দেখিনি। এবার হাটে দুম্বা কেনাবেচা হতে দেখে খুব ভালো লাগছে। এছাড়া আজকের হাটে বিগত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ছাগল-গরুও উঠেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, দুম্বা সাধারণত শুষ্ক ও গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলের প্রাণী হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে তাপমাত্রা বাড়ায় এ এলাকার আবহাওয়ার সঙ্গে এরা মানিয়ে নিয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলায় তিন হাজার ২৪টি খামারে ৬৬ হাজার ২৮১ টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলায় চাহিদা ৩৪ হাজার ৩৮৩ হলেও উৎপাদন হয়েছে চাহিদার দ্বিগুণ। ফলে উদ্বৃত্ত ৩১ হাজার ৮৯৮টি পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা যাবে।