বিজ্ঞাপন
রামিসার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাক ৯০ বছরের দাদা
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু রামিসাকে দাফন করা হয়েছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার ৯০ বছর বয়সী মজিবর রহমান মোল্লা। তিনি রামিসার চাচাতো দাদা। চোখেমুখে তার অসহায়ত্ব। বুকভাঙা কষ্টে যেন বাকরূদ্ধ।
বুধবার রাতে এখানে দাফন করা হয়েছে ৮ বছরের রামিসাকে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা গেল, কবরের মাটি এখনো ভেজা। মাঝে লাগানো সূর্যমুখী ফুলগাছ নুইয়ে আছে মাথা। চারপাশে নীরবতা।
পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, বুধবার রাতে জানাজা শেষে রামিসাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দাফনের পর রামিসার বাবা-মা ঢাকায় ফিরে গেলেও মজিবর রহমান মোল্লা কবরের পাশ ছাড়েননি।
রামিসার চাচাতো ভাই রানা মোল্লা জানান, পরিবারটি স্থায়ীভাবে গ্রামে বসবাস করত না। রামিসার বাবা ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদ বা বিভিন্ন ছুটিতে তারা গ্রামে আসতেন।
রানার ভাষ্য, রামিসা ছিল খুবই চঞ্চল ও প্রাণবন্ত। বাড়িতে এলেই সবার সঙ্গে মিশে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখত। এমন একটি নিষ্পাপ শিশুকে যেভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া কঠিন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
এদিকে রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামী সিরাজদিখান উপজেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। একই দিন বিকেল ৫টায় জাতীয় পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা সিরাজদিখান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে।
পরিবার জানায়, দুই বোনের মধ্যে রামিসাই ছিল ছোট। তার আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। একই সঙ্গে পুরো গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ ও বিচার দাবির সুর।
স্থানীয়দের দাবি, এমন ভয়াবহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।