Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

স্বামীর পাশে শায়িত হলেন স্ত্রী ও ৩ সন্তান

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

স্বামীর পাশে শায়িত হলেন স্ত্রী ও ৩ সন্তান

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৫ সদস্যর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। 

শনিবার (১৬ মে) উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে ৪ জনের লাশ দাফন করা হয়। এর আগে উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রাসার মাঠে ৪ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজার নামাজে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

স্থানীয়রা জানান, ওই বাড়ির আবুল কালাম (৪৮) প্রায় ৩০ বছর আগে কাজের সন্ধানে শহরে পাড়ি জমান। নারায়ণগঞ্জে তিনি সবজির ব্যবসা করতেন। একপর্যায়ে উজিরপুরের সালমা নামের এক নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তাদের সংসারে জন্ম নেয় একে একে তিন সন্তান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ফতুল্লায় একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলায় বসবাস শুরু করেন কালাম। কয়েকদিন আগে ওই বাসার গ্যাস লাইন লিকেজ হয়। বিষয়টি কালাম বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানায়। তবে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

আরও পড়ুন
গত রোববার ভোরে কালাম তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে গুরুতর দগ্ধ হয় কালামসহ পরিবারের ৫ সদস্য। গুরুতর অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সোমবার চিকিৎসাধীন কালামের মৃত্যু হয়। ওইদিনই কালামের লাশ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন বুধবার ছোট মেয়ে কথা মনি (৭), বৃহস্পতিবার ছেলে মুন্না (৮) ও মেয়ে মুন্নি (১০) এবং শুক্রবার তার স্ত্রী সালমার (৩২) মৃত্যু হয়। 

নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, আগুনে কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, তার স্ত্রী সালমার ৬০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ ও ছেলে মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

কালামের ভাইয়ের মেয়ে মেঘলা (২৫) বলেন, তারা ৩০ বছর ধরে ফতুল্লায় থাকেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা রোজগার করে বাড়িতে একটি ঘর তোলেন। যার নির্মাণকাজ এখনো বাকি। কথা ছিল কুরবানির ঈদে এসে বাকি কাজ শেষ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামেই বসবাস শুরু করবেন। ঠিকই বাড়িতে আসছেন তারা, তবে কফিনবন্দি হয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা টিপু মুন্সী বলেন, একসঙ্গে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু। একজনও বেঁচে নেই। পুরো পরিবারটি শেষ হয়ে গেল।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার