বিজ্ঞাপন
১০ বছরের অপেক্ষার পর এক সঙ্গে ৭ সন্তান প্রসব, বাঁচেনি একজনও
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার পর এক সঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন সালমা বেগম নামে এক গৃহবধূ। ওই দম্পতির ঘর আলো করে চারটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে সন্তান এলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে ছয় সন্তানকে। অপর এক সন্তানকে যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কালুখালী গ্রামের মহসিন মোল্যার সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে সালমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর দীর্ঘ সময় বিদেশে ছিলেন মহসিন। কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি।
পরিবার জানায়, কয়েক বছর আগে সালমা বেগম একবার গর্ভবতী হলেও সেই সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার সন্তানসম্ভবা হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা তার গর্ভে ছয়টি সন্তান থাকার কথা জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সাতটি সন্তানের জন্ম দেন।
গত সোমবার বিকেলে হঠাৎ সালমা বেগমের প্রসববেদনা শুরু হলে দ্রুত তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। জন্মের কিছুক্ষণ পর শিশুটির মৃত্যু হয়। এরপর আরও একে একে বাকি সন্তানদের জন্ম হয় এবং তারাও মারা যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত পর্যন্ত মোট সাতটি সন্তান জন্ম নেয়। নবজাতকদের কেউই বেশিক্ষণ বাঁচেনি। পরে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
শিশুদের দাদা লতিফ মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন পর পরিবারে সন্তান আসার খবরে সবাই আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিজ হাতে এতগুলো নবজাতককে দাফন করা অত্যন্ত কষ্টের বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে সালমা বেগম যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।