বিজ্ঞাপন
ধান কাটা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে কৃষকের মৃত্যু
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ধান কাটা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত ও চার জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষকের নাম মো. নুর আলম (৫৫)। তিনি মধুপুরের ইকরাম শেখের ছেলে। আহতরা হলেন- একই এলাকার মুসা শেখ (৩০), সোহেল রানা (৫০), মফিজুর রহমান মুন্সি (৩০) ও আলী হুসাইন (৩০)। তারা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আল বেরুনী বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোড়লের সঙ্গে একই ইউনিয়ন বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মধুপুরের বিলে দুজনের ধানক্ষেত আছে। আজ সকালে সাইফুল ইসলামের পক্ষের পাঁচ জন কৃষক ওই বিলে ধান কাটতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শহিদুলের লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এতে সাইফুলের পক্ষের নুর আলম নিহত হন। এ ছাড়া মো. সোহেল রানা, মুসা শেখ, মফিজুর রহমান মুন্সি ও আলী হুসাইন আহত হন।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মধুপুর এলাকার আমজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে একটি জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল ও সাইফুলের লোজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে আহত নুর আলমের মৃত্যু হয়।’
ওসি আরও বলেন, ‘শহিদুল ও সাইফুলের মধ্যকার বিরোধ দীর্ঘদিনের। তারা উভয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।’
স্থানীয় দুজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাইফুলের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে ২০-২৫ জন অংশ নিয়েছেন। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ধান কাটাকে কেন্দ্র করে শহিদুল ও সাইফুল পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাইফুল গ্রুপের একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। এ ছাড়া জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’