Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

বিউটি পার্লারের আড়ালে দেহব্যবসা, বাধ্য করতে তরুণীর ওপর নির্যাতন

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

বিউটি পার্লারের আড়ালে দেহব্যবসা, বাধ্য করতে তরুণীর ওপর নির্যাতন

বিজ্ঞাপন

মানিকগঞ্জ জেলাশহরের একটি বিউটি পার্লারের আড়ালে দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে বাধ্য করতে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মানিকগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার এলজিইডি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘রাইসা বিউটি ঘর’ নামের একটি পার্লারের আড়ালে পতিতালয় পরিচালনা করা হচ্ছিল। ওই পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন— মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মো. তুষার রহমান (২৬), দেড়গ্রাম এলাকার তাজনীন আক্তার চাঁদনী (২৩), পশ্চিম সেওতা এলাকার রিফাত (২৫) ও রজ্জব (২৫), বাইচাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম টিপু (৪৫) এবং আরও অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন।

এজাহারে ভুক্তভোগী তরুণী উল্লেখ করেন, তিনি ওই পার্লারে চাকরি করতেন। এই সুযোগে রত্না ইয়াছমিন ও তার সহযোগীরা তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করেন। গত ১১ মার্চ তার ছোট বোন ফাতেমা আক্তার (১৩) উত্তর সেওতা এলাকায় তার ভাড়া বাসায় বেড়াতে এলে অভিযুক্তরা তাকে দেহব্যবসায় যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। তিনি এতে রাজি না হলে শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার বোনকে একই প্রস্তাব দেয়।

তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে জোর করে ওই পার্লারে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে আবারও দেহব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং লোহার শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এছাড়া ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে তার তলপেটে লাথি মারা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা পার্লারে ব্যবহৃত ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেয় এবং মুখমণ্ডলে কালো কালি লাগিয়ে তার চেহারা বিকৃত করে দেয়। পরে তার বন্ধু সাথী ও সাবিনা বিষয়টি জানতে পেরে মানিকগঞ্জ থানায় খবর দেন। পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে পুলিশ রত্না ইয়াছমিনসহ তিনজনকে আটক করে, তবে অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

পরে ভুক্তভোগীকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার