অবশেষে গ্রেফতার দিল্লির দেহব্যবসার ‘রানী'

জাগো বাংলা ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭
অবশেষে গ্রেফতার দিল্লির দেহব্যবসার ‘রানী'

গীতা অরোরা ওরফে সনু পঞ্জাবন (৩৬) ইংরেজিটা বেশ গড়গড় করে বলে যায়। চালচলনে আগাগোড়া আভিজাত্যের ছাপ। ছিপছিপে শরীর। গায়ে ঝকঝকে পোশাক দেখে কে বলবে, এই মহিলা আসলে দিল্লি পুলিশের খাতায় এক দাগি অপরাধী!

সনু পঞ্জাবন দেহব্যবসার মালকিন, নারী পাচার চক্রের অন্যতম মাথা। এমনকি তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও রয়েছে।

গত বেশ কয়েক মাস ধরে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ গীতাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। শনিবার রাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় গীতাকে। যদিও এর আগেও একাধিকবার তাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কিন্তু উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে বারবারই ছাড় পেয়ে যাচ্ছিল সনু।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে এগিয়ে আসে তারই ডেরা থেকে পালিয়ে যাওয়া এক যুবতী। তার সাহায্যেই সনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই যুবতীর কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুধু দিল্লিই নয়, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার দেহব্যবসা এবং নারী পাচার চক্রের ওপরেও সনুর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

আস্তানা থেকে পালিয়ে আসা যুবতী পুলিশকে জানান, ২০০৯ সালে ১২ বছর বয়সে মেয়েপাচার চক্রের লোকজন নজফগড়ে বাড়ির কাছ থেকেই অপহরণ করে তাকে। তারপর নানা হাত ঘুরে পৌঁছান সনুর ডেরায়।

তিনি আরও জানান, মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে কিনে নেয় সনু। মেকওভার করে দেয় তার। সনু নিজে তাকে ইংরাজি বলতে শেখায়। কারণ ইংরাজি জানা থাকলে খুব সহজেই নাকি পয়সাওয়ালা কাস্টমার মেলে। দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তার পোশাকেও আমূল বদল আনা হয়। জোরজবরদস্তি দেহব্যবসায় নামানো হয়। এ ভাবেই অনেকগুলো বছর কেটে যায়।

২০১৪ সালে সুযোগ পেয়ে সনুর ডেরা থেকে পালিয়ে যান যুবতী। নজফগড়ে গিয়ে সনু এবং তার দলবলের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও করেন।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গীতা অরোরা ওরফে সনু পঞ্জাবনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

বিএইচ