Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সোশ্যাল মিডিয়া

ভাবছি মহিলা কলেজের সভাপতির পদটি ছেড়ে দিতে হবে!

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

ভাবছি মহিলা কলেজের সভাপতির পদটি ছেড়ে দিতে হবে!

বিজ্ঞাপন

পটুয়াখালীর বাউফলের ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন তার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে এবং কারো মনে কষ্ট না দিতে এবার সভাপতির পদ ছেড়ে দেওয়াই উচিত মনে হচ্ছে। রবিবার (১৫ মার্চ) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। 

জাগো বাংলার পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো: 

আমাদের সময় টেস্ট পরীক্ষায় এক পেপারে ফেল করলেও তাকে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতো না। কিন্তু এখন টেস্ট পরীক্ষায় তিন সাবজেক্টে ফেল করার পরেও তারা বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চায়। কলেজের শিক্ষক মন্ডলী এবং কমিটির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়ার পরেও তদবিরের আর শেষ নেই এবং অনেক আমার উপরে মন খারাপ করেছেন। অনেক অভিভাবক ভাবতে পারেন, সভাপতি বললেই হয়ে যাবে, কিন্তু যখন কারো হাতে দায়িত্ব থাকে তাকে তো কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এখন নিয়ম পরিপালন করতে গিয়েই বিপত্তি। 

উল্লেখ্য, গত বছর কিছু ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হলেও তারা ৯৫ ভাগ ফেল করেছে। গত ১৭ বছর কলেজটিতে লুটপাট চলেছে।

আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখন কলেজের ফান্ডে নিয়মিত অর্থ জমা হচ্ছে। গত বছরেই শিক্ষকমণ্ডলী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ বোনাস দেয়া হয়েছে এবং এই বছরে ঈদ বোনাস ও বাড়ি ভাড়াও দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে মন্ত্রণালয় থেকে কলেজের উন্নয়নের জন্য ১৫ লাখ টাকার বরাদ্দ নিয়ে ভবনের ছাদ, ফ্লোর, জানালা এবং দরজা সংস্কার করা হয়। ছাদ ভেঙে পানি পড়তো, রুমগুলো অচল হয়ে গিয়েছিল। 

এই সময় বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়। আগে যেখানে টিনের ভাঙা বেড়া দেয়া ছিল। সম্পূর্ণ বাউন্ডারি নির্মাণের বরাদ্দ না থাকার পরেও ঠিকাদারকে অনুরোধ করে সম্পূর্ণ জায়গায় বাউন্ডারি ওয়ালি নির্মাণ করা হয় এবং পাশাপাশি একটি দৃষ্টিনন্দন গেইট তাকে দিয়ে করানো হয়। ঠিকাদারকে বলা হয়েছিল যে আপনার কাজে কেউ বাধাগ্রস্ত করবে না, কাউকে এক পয়সা ঘুষ দেয়ার প্রয়োজন নাই। আপনি প্রফিট একটু কম করেন তবে আমাদের কাজগুলো একটু সুন্দর করে করে দেন। তিনি কথা রেখেছিলেন। 

প্রায় দেড় বছর কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি এবং কলেজের শিক্ষক মন্ডলী আন্তরিকভাবে কলেজ পরিচালনার সহযোগিতা করেছেন, তারা নিয়মিত পাঠদান করছেন এবং সমন্বিতভাবে কলেজের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

কলেজটি আগের দুরবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আশাকরি ভবিষ্যতে কলেজটি বাউফলের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করবে। 

তবে সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এবং কারো মনে কষ্ট না দেয়ার জন্য এবার সভাপতির পদটি মনে হয় ছেড়ে দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার