বিজ্ঞাপন
ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
বিজ্ঞাপন
ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে জাতিসংঘ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কূটনীতিক অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট ও দীর্ঘ চিঠির মাধ্যমে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা 'প্যাট্রিয়টিক ভিশন' (পিভিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা সম্পন্ন। ২০১৬ সালে তাকে জাতিসংঘে এই সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করার পেছনে তিনি জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর একটি ‘শক্তিশালী লবির’ প্রভাবকে দায়ী করেছেন।
তেহরানের একটি ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া পোস্টে সাফা লিখেছেন, ‘মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না। জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির জন্য কাজ করছে।’
তিনি যুদ্ধের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনা করে বলেন, তেহরান কোনো জনশূন্য মরুভূমি নয়। প্রায় এক কোটি মানুষের এই শহরে পরিবার, শিশু ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ বাস করে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, যদি ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনে পারমাণবিক হামলা চালানো হতো, তবে পৃথিবী কেমন হতো?
I don't think people understand the gravity of the situation as the UN is preparing for possible nuclear weapon use in Iran.
This is a picture of Tehran. For you uneducated, untraveled, never-served, warhawks licking your chops at the thought of bombing it. It's not some low… pic.twitter.com/BnzB4F3001
সাফা বলেন, ‘আমি এই তথ্য ফাঁস করার জন্য আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ বা সাক্ষী না হওয়ার জন্য আমি আমার দায়িত্ব স্থগিত করেছি। অনেক দেরি হওয়ার আগেই একটি পারমাণবিক শীতকাল ঠেকানোর চেষ্টা করছি আমি।’
যুক্তরাষ্ট্রে গত রোববার অনুষ্ঠিত হওয়া ‘নো কিংস’ স্লোগানের বিশাল বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তিনি বিশ্ববাসীকে রাজপথে নেমে আসার এবং মানবতার স্বার্থে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। তার মতে, কেবল সাধারণ মানুষই এই ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে পারে।
মোহাম্মদ সাফা জানান, তিনি মূলত ২০২৩ সালেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন এবং গত তিন বছর ধরে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করতে চান না।
After much reflection, and after it became clear to me that some UN seniors are serving a powerful lobby and not the UN, I have decided to suspend all my duties as PVA Main Representative at the UN and from all UN committees/groups of which I am a member.
I cannot in good… pic.twitter.com/6L93K9ZP7N
সাফা আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর তিনি যখন ভিন্নমত পোষণ করেন, তখন থেকেই তাকে নানা সমালোচনা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, গাজা যুদ্ধের পর থেকে একটি বিশেষ ‘লবি’ নতুন বিশ্বব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রতিবাদের কারণে তিনি এবং তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাকে তথ্য সেন্সরশিপের শিকার হতে হয়েছে।
সাফার মতে, জাতিসংঘের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই বিশেষ লবিকে সেবা দিচ্ছেন।
এই চাঞ্চল্যকর পদত্যাগ এবং অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
বিজ্ঞাপন