Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

জরায়ুতে ২১ কেজির টিউমার অস্ত্রোপচার করে প্রাণ বাঁচল মহিলার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩০ এএম

জরায়ুতে ২১ কেজির টিউমার অস্ত্রোপচার করে প্রাণ বাঁচল মহিলার

বিজ্ঞাপন

এক মহিলা জরায়ুতে ২১.৮ কেজি ওজনের একটি টিউমার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করছিলেন। তার পেট ফুলে উঠেছিল এবং ঋতুচক্র ছাড়াও অস্বাভাবিক রক্তপাত হচ্ছিল। এই কারণে তিনি চিকিৎসকের কাছে যান।

পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার পেটের মধ্যে একটি বিশাল টিউমার রয়েছে, যা জরায়ুর সীমা ছাড়িয়ে শ্রোণিদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এটি ইউটেরাইন সারকোমা নামে পরিচিত, যা জরায়ুর এক ধরণের ক্যানসার এবং সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। জরায়ুর ক্যানসার সাধারণত খুব বিরল, মাত্র ২ শতাংশ ক্ষেত্রে এমন ক্যানসার দেখা যায়। দিল্লি এম্‌সের চিকিৎসকরা এক ঘণ্টার অস্ত্রোপচার করে এই বড় টিউমারটি অপসারণ করেন।

ইউটেরাইন সারকোমা অনেক সময় জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা সিস্টের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, তবে এর চরিত্র আলাদা। এম্‌সের চিকিৎসক ড. এমডি রায় জানান, ওই মহিলার অস্বাভাবিক খিদে, পেট ফুলে থাকা এবং রক্তপাত ছিল। আলট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে দেখা যায়, টিউমারটি পেট থেকে পুরো পেলভিক এলাকা অবধি ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি অন্ত্র ও কিডনির ক্ষতি করছিল। কিডনির কার্যক্ষমতাও কমে যাচ্ছিল, এবং কিছু দিনের মধ্যে মাল্টি-অর্গান ফেলিয়ারের দিকে চলে যেতে পারতেন তিনি।

ইউটেরাইন সারকোমা কী?

এই ক্যানসার জরায়ুর পেশি এবং কোষগুলোতে ক্ষত সৃষ্টি করে, যার ফলে কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন শুরু হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি টিউমার হিসেবে তৈরি হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে কোষ বিভাজিত হয়ে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে। এটি সাধারণত জরায়ুর ভিতরেই থাকে না, বরং পেলভিক এলাকা, ডিম্বাশয়, মূত্রথলি এবং মূত্রনালিতেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রস্রাবের সংক্রমণ, কিডনির ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া এটি লসিকা গ্রন্থির মাধ্যমে ফুসফুস, লিভার বা হাড়েও ছড়িয়ে যেতে পারে।

ইউটেরাইন সারকোমার লক্ষণগুলোর মধ্যে পেট ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঋতুস্রাব এবং রজোনিবৃত্তির পরেও রক্তপাত হওয়া অন্যতম। ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি, তবে কম বয়সেও এটি হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

মহিলার ২১ কেজির টিউমার অপসারণের জন্য এম্‌সের চিকিৎসকরা এক্সপ্লোরেটরি ল্যাপারোটমি পদ্ধতি ব্যবহার করেন। সিটি স্ক্যান বা আলট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে সবকিছু ঠিকভাবে দেখা না গেলে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এতে পেটে ছিদ্র করে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হয়। মহিলার টিউমারের আকার ও ওজন এত বড় ছিল যে, প্রায় এক ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর সেটি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার