এক নজরে আইয়ুব বাচ্চুর সংগীত জীবন

জাগো বাংলা ডেস্ক প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৮
এক নজরে আইয়ুব বাচ্চুর সংগীত জীবন

১৯৬২ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম গ্রহণ করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, এলআরবির দলনেতা ও লিড গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু। বাংলা সংগীতজগতের অন্যতম এই ধ্রুবতারার পারিবারিক ডাকনাম রবিন।

চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এই সংগীতশিল্পী ভক্তদের কাছে এবি নামে পরিচিত। চট্টগ্রামের সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে আইয়ুব বাচ্চুর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয়। 

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ১৯৭৮ সালে যোগ দেন ব্যান্ড ফিলিংসে। শহীদ মাহমুদ জঙ্গির ‘হারানো বিকেলের গল্প’ গানে প্রথম কণ্ঠ দেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলসে গান গেয়েছেন তিনি।

সোলসে থাকার সময়ই ১৯৮৬ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ বের হয়। ১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’ মুক্তি পায়। ১৯৯০ সালের পর থেকেই নিজের ব্যান্ড গড়বেন বলে মনস্থির করেন আইয়ুব বাচ্চু।

১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে তার ব্যান্ড ‘লিটল রিভার ব্যান্ডস’, সংক্ষেপে ‘এলআরবি’। পরে অবশ্য নাম পরিবর্তিত হয়: ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’, সংক্ষিপ্ত রূপ অবশ্য সেই এলআরবি-ই থাকে। এরপর তিনি হয়ে উঠতে থাকেন বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের এক ইতিহাস।

ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশে প্রথম ডাবল অ্যালবাম এলআরবি-১ ও এলআরবি-২ ব্যাপক সাড়া জাগায় শ্রোতাদের মাঝে।

এরপর নিয়মিত প্রকাশ পেতে থাকে ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘স্বপ্ন’, ‘আমাদের বিস্ময়’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মন আছে নাকি নাই’, স্পর্শের মতো অ্যালবাম। সুখ অ্যালবামের ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’ উল্লেখযোগ্য গান।

‘চলো বদলে যাই’ বাংলাদেশের সংগীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ২০১২ সালে ব্যান্ডটির সর্বশেষ অ্যালবাম ‘যুদ্ধ’ বের হয়েছে। ব্যান্ডটির একমাত্র লাইভ অ্যালবাম ‘ফেরারী মন’ ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায়।

সোলসে থাকার সময় দুটি একক অ্যালবামের কাজ হলেও নিজের ব্যান্ড তৈরির পর সেদিকে আবারও নজর দেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৯৫ সালে চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ‘ঘুমন্ত শহরে’র সঙ্গে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’।

সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত করা হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’ ও ‘আমিও মানুষ’। তিনি বাংলা ছবিতেও প্লেব্যাক করেছেন। ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান।

এটি তার গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান। ছবিটির নাম ছিল ‘লুটতরাজ’।

পরে প্রকাশ হওয়া জনপ্রিয় একক অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি’, ‘দুটি মন’, ‘কাফেলা’, ‘প্রেম প্রেমের মতো’, ‘পথের গান’, ‘ভাটির গানে মাটির টানে’, ‘জীবন’, ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’, ‘রিমঝিম বৃষ্টি’, ‘বলিনি কখনো’ এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে একক অ্যালবাম ‘জীবনের গল্প’। ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’ আইয়ুব বাচ্চুর একমাত্র যন্ত্রসংগীতের অ্যালবাম।

এবি কিচেন নামে আইয়ুব বাচ্চুর একটি ব্যক্তিগত রেকর্ডিং স্টুডিও রয়েছে। এই স্টুডিওতে নিজের জন্য ও অন্য জনপ্রিয় শিল্পীদের জন্য অনেক গান সুর ও সংগীত আয়োজন করেছেন।

২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ার কারণে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তবে সুস্থ হয়ে আবার সংগীতজগতে ফিরলেও হৃদরোগের সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। ২০০৯ সালে হার্টে রিং পরাতে হয়েছে তার।

সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর রংপুর জিলা স্কুলের মাঠে ‘শেকড়ের সন্ধানে’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠানে কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকায় ফিরে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন আইয়ুব বাচ্চু।

১৮ অক্টোবর মগবাজারে নিজ বাসভবন থেকে হাসপাতালে নেয়ার পথে হার্ট অ্যাটাকের কারণে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এই মহাতারকার মৃত্যু হয়।

গত ২৪ আগস্ট আইয়ুব বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের সন্তান। তাই চট্টগ্রামের জন্য কিছু করে যেতে চাই। আমি সারাজীবন গাইতে পারবো না। কিন্তু আমি চাই চট্টগ্রাম থেকে আমার মতো আরও কেউ উঠে আসুক। চট্টগ্রামের উদীয়মান শিল্পীদের জন্য আমি একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই। চট্টগ্রামে এবি লাউঞ্জ হবে ব্যান্ড সংগীত এবং উদীয়মান ব্যান্ড শিল্পীদের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার।’

ব্যক্তিগত জীবনে আইয়ুব বাচ্চু ফেরদৌস চন্দনাকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে জন্ম নেয় পুত্র ফাইরুজ ও কন্যা তাজওয়ার।

বাংলা সংগীত জগতে অপূরণীয় অভাব রেখে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু। বোঝে না আমার কি ব্যাথা/চেনার মত কেউ চিনলো না/এই আমাকে...

বিএইচ