ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করলেন অনন্ত জলিল

জাগো বাংলা ডেস্ক প্রকাশিত: ০৩:০৯ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২০
ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করলেন অনন্ত জলিল

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়ক অনন্ত জলিল। তিনি একাধারে প্রযোজক ও পরিচালকও। এই ব্যবসায়ী অভিনেতা নানা রকম সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অনেক প্রশংসিত হয়েছেন। প্রায় সময় নানা মন্তব্য করে আলোচনারও জন্ম দেন। এবার তিনি সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ধর্ষণ নিয়ে চলমান প্রতিবাদ-আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। সেইসঙ্গে দেশের নারীদের পোশাককেও ধর্ষণের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। তার মতে, শালীন পোশাক পরা নারী কখনোই ধর্ষণের শিকার হয় না। পোশাক ভালো না হলে তার শরীর-ফিগার দেখে বাজে স্বভাবের লোকজন ধর্ষণের উস্কানি পায়।

তার এই মন্তব্যকে ঘিরে চলছে সমালোচনা। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করে অনন্ত জলিলের বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে নিজেদের ক্ষোভ জানাচ্ছেন। অনেকে আবার বলছেন, অনন্তই সঠিক। দেশে নারীদের আরও পর্দায় থাকা উচিত, শালীন পোশাক পরা উচিত।

অনন্ত ৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে তিনি ধর্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোরা পুরুষ? নিজেদের বীরপুরুষ ভাবিস? তোরা কাপুরুষ। তোদের সামনে যদি তোদেরই স্ত্রী-কন্যাকে রেপ করা হয় তাহলে কেমন লাগবে? এই যে ধর্ষণ করে সারাদেশে আন্দোলন-প্রতিবাদের জন্য একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এটা দেখে কী খুব হাসি আসছে?

তোর বাবা-মাকে মানুষ কি বলে? একবার ভেবে দেখ তোর জন্য, তোদের জন্য মা জাতি আজ দেশে কলঙ্কিত।’

এসময় তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের ভাই হিসেবে কিছু কথা বলতে চাই। নাটক, সিনেমা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনুসরণ করে অন্য দেশের মেয়েদের মতো মডার্ন হতে গিয়ে, বিদেশি সংস্কৃতির পোশাক পরছো। এসব পোশাকের জন্য রাস্তার বখাটেরা আল্লাহর দেয়া তোমার চেহারাটার দিকে না তাকিয়ে তারা তোমার শরীর ও ফিগারের দিকে নজর দেয়।

তোমাদের পোশাক দেখেই তারা তোমাদের ফিগার নিয়ে নানা কথা বলে। আর তাদের মাথায় ধর্ষণের চিন্তা আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কথাগুলো আজ তিতা মনে হতে পারে। খুব তিতা। কারণ এর আগে আমি কখনোই এ ধরনের কথা বলি নাই। কিন্তু এগুলো সবই সত্যি কথা। কেন এ ধরনের ড্রেস পরতে হবে? এগুলো কি মডার্ন ড্রেস, নাকি অশালীন ড্রেস? মডার্ন হলো শুধু তোমাদের চেহারাটা দেখা যাবে যা আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন। আর বাকি শরীর সব ঢেকে রাখতে হবে।

ছেলেদের মতো একটা টি শার্ট পরে রাস্তায় বের হয়ে যাও। খুব মডার্ন তুমি। নিজেকে অনেক মডার্ন মনে করো। তারপর ইজ্জত হারিয়ে বাসায় যাও। হয় আত্মহত্যা করো নয়তো কাউকে আর মুখ দেখাতে পারো না। শালীন ড্রেস পরলে যারা বখাটে, যারা ধর্ষণের চিন্তা ভাবনা করে তারাও তোমার দিকে তাকাবে না। সম্মান করবে। মাটির দিকে তাকিয়ে চলে যাবে।’

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আইন চালু করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধও জানান অনন্ত জলিল।

ফেসবুকে পোস্ট করা এই ভিডিওটিতে প্রায় ৩০ হাজারের লাইক পড়েছে। এখানে প্রায় ২ হাজার মন্তব্য পড়েছে যেখানে অনন্ত জলিলের প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোই রয়েছে।

সুমন আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই অনেক সুন্দর করে আপনি বুঝিয়ে বললেন। কিন্তু ড্রেসের কথা বলাতে দেখবেন একদল জানোয়ার টাইপ মেয়ে উঠে পড়ে লাগবে। তবে আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন এই কামনায়। ভালো থাকবেন প্রিয় ভাই।’

জাস্টিন অ্যান্থনি নামে এক আইডি থেকে অনন্তর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, ‘মাদ্রাসার যেই ছাত্র টাকে বলাৎকার করা হয়েছে তার পোশাকে কি প্রবলেম ছিল? চতুর্থ শ্রেণী এবং সপ্তম শ্রেণীতে পড়া বাচ্চা মেয়ে গুলোর পোশাকে কি অনেক সমস্যা ছিল?’

রবিউল ইসলাম অভি নামে একজন লিখেছেন, ‘আপনার ওয়াইফকে অশ্লীল ড্রেস পরান কিসের জন্য? আপনাদের দেখে দেখে তো বাংলাদেশের মেয়েরা শেখে। আপনি ভালো কথা বলছেন কিন্তু আপনার ঘরকে আগে সামলান। কারণ আপনারা সিনেমা জগতের লোক আপনাদের দেখে দেখেই বাংলাদেশের মেয়েরা শিখছে। বাহিরের রাষ্ট্রে যেতে হবে না, আপনার ওয়াইফের দিকে তাকিয়ে দেখেন আপনার ওয়াইফ কিরকম ড্রেস পরে। ধন্যবাদ।’