বেসিকের এমডি আউয়াল খানের পদত্যাগ

জাগো বাংলা ডেস্ক প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৮
বেসিকের এমডি আউয়াল খানের পদত্যাগ

হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ১০ মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন মুহাম্মদ আউয়াল খান।

ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা সমস্যায় ডুবতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটিকে বাঁচাতে গত বছরের ১ নভেম্বর আউয়াল খানকে এমডি নিয়োগ করেছিল সরকার। ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল।

পদত্যাগের বিষয়ে আউয়ান বলেন, ব্যক্তিগত কারণে রিজাইন করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ বলেন,‌‌ ১৪ অাগস্ট এমডির পদত্যাগপত্র পেয়েছি। ৩০ অাগস্ট পরিচালনা পর্ষদের সভায় তা উপস্থাপন করা হবে।

বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, পদত্যাগপত্র জমা দিলেও ঈদের ছুটির পর রোববার ও সোমবার আউয়াল অফিস করেছেন।

আউয়াল খান আগে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন। ২০১৭ সালের আগস্টে অবসরজনিত ছুটিতে যান তিনি।

ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর তিন বছরের জন্য বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকেরও এমডি ছিলেন।

এমডির দায়িত্ব নেয়ার পর আউয়াল খান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ব্যাংকটির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবেন তিনি। সেজন্য তিন বছরের পরিকল্পনা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, যোগদানের পর ব্যাংকের কাজে মনোযোগ দিতে পারেননি আউয়াল খান। প্রথম দিকে ব্যাংকের খারাপ অবস্থা দেখেই কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এ কারণে এর আগেও পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বেসিক ব্যাংকের ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশ ঋণই খেলাপি। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ এখন ৮ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। আর ৬৮টি শাখার মধ্যে ২১টিই লোকসানে।

পুনঃতফসিল করা অনেক ঋণও খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। চলতি ২০১৮ সালে ব্যাংকটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার পাঁচ বছরে (২০০৯-১৪) অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৯ সালের ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৫ শতাংশ, আর ২০১৪ সাল শেষে তা দাঁড়ায় ৬৮ শতাংশ।

এইচএম